ঢাকার বনানী থানার অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত।
আনিসুল হকের আইনজীবীর সময় চেয়ে আবেদন করার প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এ সময় আনিসুল হককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আনিসুল হকের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন হোসেন বলেন, ‘আমাদের মামলা সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করার বাকী আছে। সেগুলো সংগ্রহ করার জন্য আমরা আদালতের কাছে সময় চেয়েছিলাম। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে।’
যেই অস্ত্র নিয়ে মামলাটি দিয়েছে সেটি আসলে আনিসুল হকের বৈধ অস্ত্র। সেই কাগজপত্র শুনানির জন্য নির্ধারিত পরবর্তী দিনে নিয়ে আসার কথা জানান এ আইনজীবী।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আটদিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে, গেল বছর ২৪ মে বনানী থানায় অস্ত্র মামলাটি দায়ের করেন ওই থানার এসআই মো. জানে আলম দুলাল। তদন্ত শেষে আনিসুল হককে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে বনানী থানা পুলিশ।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, আনিসুল হক বনানী থানার অধীনে নিজের নামে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি পিস্তলের মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কিন্তু আনিসুল হক ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি থানায় জমা দেননি বা থানাকে অবহিতও করেননি। তার ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং অস্ত্র জমা সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। তিনি গুলি কিনেছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ফলে তিনি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ধারায় অপরাধ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।


