দেশে হাম পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৯২ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জনে এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা ৭৮০ জনে।
তবে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনে এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮ জন।
সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৮৭৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সোমবারের স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
৯ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১০ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে ৯৪০ জন সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৯৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৯ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়। এ বিভাগে ৩৮৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামে ২৫২ জন এবং সিলেটে ১৩২ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে ঢাকায় সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সিলেটে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য ছয় বিভাগে এ সময়ে সন্দেহজনক হামজনিত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভাগটিতে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫২৬ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ২৮৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ঢাকায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৩৪১ জনের এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের।
চট্টগ্রাম বিভাগে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৩৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বিভাগটিতে সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০।
এদিকে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে লক্ষ্যমাত্রার ১১০ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ২১৮ জন, এর বিপরীতে টিকা পেয়েছে ৪৭ লাখ ২৩ হাজার ৭২৮ জন। ঢাকায় লক্ষ্যমাত্রার ১০৭ শতাংশ, রংপুরে ১০৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ১০৬ শতাংশ, খুলনা ও ময়মনসিংহে ১০৪ শতাংশ, বরিশালে ১০২ শতাংশ এবং সিলেটে ১০১ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকাদান কভারেজ হয়েছে গাজীপুরে, ১১৪ শতাংশ। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১২ শতাংশ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১১০ শতাংশ করে এবং ঢাকা দক্ষিণে ১০৩ শতাংশ কভারেজ হয়েছে।
১২টি সিটি করপোরেশনে মোট ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে মোট কভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৭ শতাংশ। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনে কভারেজ ছিল ৯৯ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার নিচে।


