ভারতে অবস্থানরত দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নয়াদিল্লিকে আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের দেশে ফেরাতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত পাঠানোসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বৈঠকে এসেছে। আমরা ভারতকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেছি। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আমরা আশা করি।’
শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার অভিযুক্তদের ফেরত পাঠানোর বিষয়েও ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। খলিলুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে ভারত যেসব নথি চেয়েছে, বাংলাদেশ সেগুলো সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতির বিষয়েও ভারতের কাছে বাংলাদেশের তীব্র উদ্বেগ জানানো হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভারতের মাটি থেকে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর—এমন অবস্থান বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রোববার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগকে ভারত সরকার সম্মান করবে এবং রাষ্ট্রের কোনো ভিত্তি বা স্তম্ভকে দুর্বল করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না—এটাই প্রত্যাশা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত দুটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণ। অন্যটি বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ।
তবে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান খলিলুর রহমান।


