নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বোমার বিকট শব্দ ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার বিকালে ফতুল্লার শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় ফতুল্লা থানা তাঁতী দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার ও কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, কলকারখানার ওয়েস্টেজ মাল নিয়ন্ত্রণ, ভূমি দস্যুতা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও মাতব্বরী নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এর জেরে শনিবার দুপুর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উভয় পক্ষ ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবসহ যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে উভয় গ্রুপের ৮ জনকে আটক করে।
আটকরা হলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ।
এ সময় ফতুল্লা থানা তাঁতী দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার কৌশলে পালিয়ে যান।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, আটকদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া, বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশ জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।


