মৌসুমী ও শাবনূর–নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। বর্তমানে দুই নায়িকা দুই দেশে বসবাস করছেন। মৌসুমী রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে, আর শাবনূর আছেন কানাডায়।
গত ১৭ ডিসেম্বর ছিল শাবনূরের জন্মদিন। বিশেষ এ দিনটি উদযাপন করতে একমাত্র ছেলে আইজানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি।
আর সেখানেই দেখা হলো বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই দুই নায়িকার।
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রথমে শাবনূর জন্মদিন উদযাপন করেন তার সহঅভিনেতা অমিত হাসান ও তার স্ত্রী লাবনীর সঙ্গে। শাবনূরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের খবর পেয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী। বহুদিন পর প্রিয় সহকর্মীকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শাবনূর।
দেখা হতেই একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন তারা। আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে মুহূর্ত। শাবনূর বারবার মৌসুমীর প্রশংসা করেন, বলেন-‘তিনি আরও সুন্দর হয়ে উঠেছেন।’
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে গল্প, আড্ডা আর স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন মৌসুমী, শাবনূর ও অমিত হাসান। উপস্থিত সবার কাছে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যেন তৈরি হয়েছে এক টুকরো বাংলাদেশ।
পুনর্মিলন নিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘খুব, খুব মিস করছিলাম শাবনূরকে। যখন শুনলাম সে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে, তাও আবার জন্মদিন উপলক্ষ্যে, তখন আর দেরি করিনি। দেখা হয়ে যে কী ভালো লেগেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমাদের অসংখ্য স্মৃতি, সেই গল্পগুলোই বারবার ফিরে আসছিল।’
অন্যদিকে আবেগঘন কণ্ঠে শাবনূর বলেন, ‘মৌসুমী আপুকে দেখে আমি এতটাই খুশি হয়েছি যে, সেটা বোঝানো সম্ভব নয়। এবারের জন্মদিনটা আমার জন্য ভীষণ সুন্দর আর স্মরণীয় হয়ে থাকল। আমার ভক্ত-দর্শকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—তারা যে ভালোবাসা আর শুভেচ্ছায় আমাকে সিক্ত করেছেন।’
দীর্ঘদিন পর নব্বই দশকের দুই জনপ্রিয় নায়িকার দেখা হওয়া তাদের ভক্তদের মাঝেও ফিরিয়ে এনেছে নস্টালজিয়া। প্রবাসে হলেও সেই মুহূর্তে সময় যেন থেমে গিয়েছিল—স্মৃতি, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের উষ্ণতায়।


