চট্টগ্রামে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রামে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকায় বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে রায়হানের দুই সহযোগী মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ১০টি ও আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজান ইউনিয়নের জুরুলকুল এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
পৃথক অভিযানে হাটহাজারীর নূরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, দিদারুল একজন ভয়ংকর ‘ভাড়াটে খুনি’। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়েও তিনি খুনের মতো অপরাধে জড়াতেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর খলিফাপাড়া এলাকায় নূরুল আজিমকে কুপিয়ে হত্যার পর তিনি পলাতক ছিলেন।
এ ছাড়া জোরারগঞ্জ থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বোরহানকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মো. মাসুদ আলম বলেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ও সন্ত্রাস নির্মূলে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা ও রিমান্ডের প্রক্রিয়া চলছে।


