রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে ৩০ দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করে আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম মিজান। তিনি জানান, মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে ৩০ দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পালন করে একটি প্রতিবেদনও আদালতে দিতে বলা হয়েছে।
গত ৩ এপ্রিল সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হওয়া জমির বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পপার্স লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। জবাবে হাতপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের নামে ৩২ একর জমি বরাদ্দ আছে। ওই ৩২ একর জমির মধ্যে প্রায় ৮ একর জমির ওপর ৭ তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল মূল ভবন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, মসজিদ, পানির পাম্প আছে।
অবশিষ্ট জমি ওপর অন্যান্য সরকারি স্থাপনা যেমন-বিএমআরসি ভবন, নিমিউ অ্যান্ড টিসি, টেমো ওয়ার্কসপ, পরিবার পরিকল্পন পণ্যাগার আইপিএইচ স্কুল, ডিএমসিএইচ এর স্টাফ কোয়ার্টার, জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল ও কুষ্ঠ হাসপাতাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার অবস্থিত।
অন্য খালি জমির ওপর বহিরাগত কর্তৃক কাঁচা-পাকা এ সকল সরকারি স্থাপনাসমূহের অনুকূলে জমি বরাদ্দের কোন প্রকার নথিপত্র অত্র দপ্তরে পাওয়া যায়নি। কিন্তু প্রতি বাংলা সনে উক্ত ৩২ একর জমির খাজনা/ভূমিকর পরিশোধের জন্য ভূমি অফিস হতে তাগিদপত্র অত্র দপ্তরে দিয়েছে।
অবশিষ্ট খালি জমিতে বহিরাগতদের কর্তৃক অবৈধভাবে কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ী, দোকানপাট, কাচা বাজার, বরফকল, রিক্সা-অটো গ্যারেজসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে, যা অধিকাংশ সরকারি জমি বহিরাগতদের দখলে।
পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে পপার্স লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়।


