জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এলাকায় মো. নাজমুল (২৫) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দেন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আখতারুজ্জামান সরকার তাকে এ হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন জানান।
অজয় করের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘তিনি এখন পর্যন্ত মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে হাইকোর্টের আদেশ আছে। সেটা ভায়োলেট করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং সংবিধান পরিপন্থী।’
এদিন শুনানির জন্য তাকে আদালতে তোলা হয়। পরে তার আইনজীবী মো. ওবায়দুল ইসলাম, শামীম আল সোহাগ সাইফুল, জাকির হোসাইনসহ অনেকে গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয় আদালত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নস্যাৎ করতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেপরোয়া হামলা চালায়। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে হামলাকারীরা।
এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন নাজমুল এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত ৪০০/৫০০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।
আটক রাখার আবেদনে পুলিশ বলেন, মামলা পরবর্তীতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে নেমে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। তিনি জামিন পেলে এলাকায় আবার সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হোক।


