নাশকতাসহ অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে তিন জেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে দিনাজপুরে ৫৯জন, মানিকগঞ্জে পাঁচজন ও রাজবাড়ীতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাইমস অব বাংলাদেশে’র দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সময়ে জেলার ১৩টি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের ৫৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগামী ১৩ নভেম্বর লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডসহ দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
টাইমসে’র মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সাটুরিয়া উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখা কার্যালয়ের সামনে আগুন লাগানোর চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ খ ম নূরুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খালেকুজ্জামান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মফিজুর রহমান, ফুকুরহাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান।
সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, মুখোশ পরে নাশকতা করার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নাশকতা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে।
মৌলভীবাজারে প্রকাশ্য মিছিল
এদিকে মৌলভীবাজার জেলা শহরের জুগিডর এলাকা এবং জুড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
মঙ্গলবার সকালে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের কামিনীগঞ্জ বাজারে ব্যানারসহ বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মুর্শেদুল আলম ভূঁইয়া জানান, খুব সকালে গাড়িতে এসে ছাত্রলীগ কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে কাউকে পায়নি। মিছিলকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।
এছাড়া আগের দিন সোমবার ভোরে জেলা শহরের জুগিডর এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করে।


