গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা ধরে রাখা স্বৈরাচার সরকারের ধারাবাহিক অপরাধ প্রবণতাই ২০২৪ সালের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গণ-আন্দোলনের মতো ঘটনা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল–এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, ‘দেশে গুম, খুন, নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল এবং ব্যাপক দুর্নীতির মতো ঘটনাগুলো জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এসব কারণেই দীর্ঘ সময়ের শাসন কাঠামো এক ধরনের দমনমূলক রূপ নিয়েছিল।’
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে রোববার এসব বক্তব্য দেন তাজুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এসএইচ তামিম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমান্বয়ে দানবে পরিণত হয়েছিল। প্রথমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডটাকে ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে গুম-খুনের কালচার চালু করে। এরপর তারা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। দেশে দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নেয়। তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) ক্রমান্বয়ে একটা দানবীয় সরকারে পরিণত হয়েছিল।’
‘জনগণকে নির্যাতন করা, হত্যা করা ও একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করা ছিল তাদের (আওয়ামী লীগ সরকারের) টার্গেট। এই দানবীয় শাসকই একটা পর্যায়ে ২০২৪ সালে আমাদের তরুণ-তরতাজা প্রজন্মের ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ চালায়’, যোগ করেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর একাংশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
এ মামলায় তিনজন মূল অভিযুক্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল। পরবর্তীতে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত বুধবার পর্যন্ত মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানসহ ৫৪ জন। সবশেষ সাক্ষী ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।


