টানা সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ আগেই ওয়ানডে সিরিজ হারের পর শনিবার শেষ ম্যাচে এসে জিতল সফরকারীরা। শরীফুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ের পর তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের রেকর্ড ১৫১ রানের জুটিতে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের দেয়া ২০০ রানের লক্ষ্য টপকে গেল বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের এই জয়ে এড়াল হোয়াইটওয়াশ, তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ করল ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে।
৮৪ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ের ম্যাচে রেকর্ড জুটির পর তানজিদ সামনে সুযোগ ছিল নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা ছোঁয়ার। যদিও চারবার জীবন পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির দেখা পাননি এই বাঁহাতি ওপেনার। ২৬-তম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০০ রান করা তানজিদের সেঞ্চুরির জন্য ডটের পর ডট দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে তানজিদকে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়ে ১০১ বলে ৯৪ রানে, ৮ চার ও ৩ ছক্কায়। আর্নেস্ট মাসুকুর বলে তুলে মেরে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে লং অনে ক্যাচ দেন তিনি।
রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই পজিটিভ ইন্টেন্ট নিয়ে ব্যাট করেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে ছিল যা অনুপস্থিত। পাওয়ারপ্লেতে ৫৯ রানে তুলেছে কোনো উইকেট হারিয়ে। ভালো শুরু পেয়ে সেটা ২৮-তম ওভার পর্যন্ত সেটা টেনে নিয়ে গেছেন তানজিদ-সৌম্য জুটি। গড়েছেন ১৫১ রানের জুটি, যা দেশের বাইরে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সৌম্য ও তামিম ইকবালের দখলে। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৪ রানের রেকর্ড গড়েন তারা।
এই রেকর্ড জুটির পথেই নিজের ১৫তম ফিফটি পেয়েছেন সৌম্য। তানাকা চিভাঙ্গার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৮২ বলে খেলেছেন ৬৯ রানের ইনিংস। তানজিদের বিদায়ের পর রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন তাওহিদ হৃদয়, ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন শান্ত।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৭ রানে প্রথম তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শরীফুল বোল্ড করে শুরুতেই ফেরান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারানকে। সপ্তম ওভারে ব্রায়ান বেনেট তাসকিনের বলে ক্যাচ দেন সোহানের হাতে। একইভাবে ক্রেইগ আরভিনকেও ফেরান শরীফুল। ইনোসেন্ট কাইয়া ২৫ রান করে উইকেটে সেট হয়ে গেলে, ২৭-তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তার উইকেট নেন তাসকিন।
এরপর সিকান্দার রাজা, ক্লাইভ মাদান্দেরা ইনিংস বড় করতে না পারলেও, ওয়েসলি মাধেভেরে এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করে গেছেন। তানভীরের বলের টার্নে পরাস্ত হয়ে কভারে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৫ রানের ইনিংস। তার এই ইনিংসেই ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। যার সুফল কাজে লাগিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স, টানা দুই ম্যাচে করেছেন ফিফটি।
আগের ম্যাচে ৩৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে এই বোলিং অলরাউন্ডার এই ম্যাচে খেলেছেন ৪৩ বলে ৫০ রানের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের রান যে ২০০ ছুঁইছুঁই হয়েছে, সেটাই তারই কৃতিত্ব। কারণ ১৫১ রানে পড়ে গিয়েছিল তাদের ৭ উইকেট।
১০ ওভার বল করে ৪৪ রানে এক মেইডেন-সহ ৪ উইকেট নিয়েছেন শরীফুল। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন তানভীর ও তাসকিন। এক উইকেট পেলেও নতুন বল হাতে দারুণ স্পেল করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৯.১ ওভারে শেষে এক মেইডেন-সহ মাত্র ৩১ রান দেন মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একাদশে আসা এই ডানহাতি মিডিয়াম পেসার।


