বল দখল আর মাঠের আধিপত্যে শুরু থেকে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে আক্রমণে ঠিক চেনা ধার পাচ্ছিল না তারা। অন্যদিকে, ধারালো কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার ইংলিশ ডিফেন্সের পরীক্ষা নিচ্ছিল নরওয়ে। চমক জাগিয়ে প্রথমে এগিয়েও গিয়েছিল আন্ডারডগরা। তবে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ম্যাচ নিজেদের করে নিল থ্রি-লায়ন্সরা। দলের ত্রাতা হয়ে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুললেন জুড বেলিংহ্যাম।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের ঐতিহাসিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটল এখানেই। মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত এই থ্রিলার ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে পা রাখলো ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রেখেছিল ইংল্যান্ড। তবে হ্যারি কেইনরা ফাইনাল থার্ডে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন। উল্টো ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে প্রথম কাঁপন ধরায় নরওয়ে। জুলিয়ান রাইয়ারসনের ক্রস থেকে আর্লিং হালান্ডের বুলেট গতির হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ইংলিশ প্রাচীর জর্ডান পিকফোর্ড।
তবে পরের মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের ডিফেন্স-চেরা পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাম প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢোকেন আন্দ্রেয়াস শিয়েলদারুপ। বাম পায়ের কোনাকুণি জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। ৪০ মিনিটে আলেকজান্ডার সরলথের পাস থেকে ওডেগার্ডের আরও একটি দূরপাল্লার শট রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি পিকফোর্ড।
নরওয়ের এই লিড অবশ্য প্রথমার্ধে মুছে দেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৪৫+২) অ্যান্থনি গর্ডনের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের ভেতরে ঢুকে বাম পায়ের ঠান্ডা মাথার প্লেসিং শটে ম্যাচ সমতায় ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। এর দুই মিনিট পর হ্যারি কেইন নরওয়ের জালে বল পাঠালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচ আরও জমে ওঠে। ৫৫তম মিনিটে কর্নার থেকে নরওয়ের তরবিওর্ন হেগেম বল জালে জড়িয়ে উদযাপনে মাতলেও, ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় গোল হওয়ার আগে হালান্ড ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
৭৬তম মিনিটে ভাগ্য সহায় হয়নি নরওয়ের। ফ্রেডরিক আউরসনেসের ক্রসে ক্রিস্টোফার আয়ারের দুর্দান্ত হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় তাদের। এরপর ৮৫তম মিনিটে আন্তোনিও নুসার একটি নিশ্চিত গোলারু শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে থ্রি-লায়ন্সরা। শুরুতে বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে হ্যারি কেইনের হেড এবং পরে মর্গান রজার্সের জোরালো শট নরওয়েজিয়ান কিপার আরিয়ান নেলান্দ পরপর দুটি অবিশ্বাস্য সেভে ফিরিয়ে দেন।
তবে সেই ফিরতি বল থেকেই বক্সের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন জুড বেলিংহ্যাম। বল জড়ায় জালের নিচের বাম কোণে। ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। ম্যাচের বাকিটা সময় এই ব্যবধান ধরে রেখে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা।


