ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত ফুটওভারব্রিজ সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। নিরাপদ বিকল্প পথ না থাকায় ভারী বর্ষণের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাইনবোর্ড মোড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম একটি কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারও মানুষ এ মোড়ে অবস্থিত ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করে মহাসড়ক পার হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভারব্রিজের উভয় প্রান্ত বন্ধ করে সংস্কারকাজ চলছে। প্রবেশমুখে টানানো ডিপিডিসির একটি নোটিশে বলা হয়েছে, ‘১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।’

ফুটওভারব্রিজ বন্ধ থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের ফাঁক গলে মহাসড়ক পার হচ্ছেন। কেউ হাত উঁচু করে যানবাহন থামানোর সংকেত দিচ্ছেন, আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। এ সময় অল্পের জন্য দুর্ঘটনা এড়াতে দেখা গেছে পথচারীদের।
এমনকি মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কিংবা পথচারীদের নিরাপদ পারাপারে সহায়তার জন্য হাইওয়ে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বঘোষণা ছাড়াই ব্রিজটি বন্ধ করা হয়েছে। কাজের সময়সীমা সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘সাইনবোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ফুটওভারব্রিজ বন্ধের বিষয়ে কোনো পূর্ব ঘোষণা দেখিনি। এখন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক। এখানে যানবাহন দ্রুতগতিতে চলে, যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সায়েদাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রাস্তার ওপারে যাওয়ার কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা নেই। কীভাবে পার হব বুঝতে পারছি না। দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
স্থানীয় দোকানদার মোহাম্মদ রাজু বলেন, ‘প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাজ চলছে। অনেক মানুষকে কষ্ট করতে হচ্ছে। একজন নারী পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন। মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত।’
টাইমস

এ বিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘ব্রিজটির সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কাজ সম্পন্ন করতে আরও দুদিনের মতো সময় লাগতে পারে। আমরা আশা করছি, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ব্রিজটি পুনরায় পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে ফুটওভারব্রিজটি চালু করার পাশাপাশি কাজ চলাকালে বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।


