বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নৃত্যপরিচালক জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তার প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
জাভেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শোকবার্তায় তিনি লেখেন, “তার প্রয়াণে আমরা হারালাম শুধু একজন শিল্পীকে নয়, হারালাম একজন অভিভাবকতুল্য মানুষকেও।”
শাকিব খান আরও লেখেন, “জাভেদ ভাই আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেও পর্দায় ও শিল্পাঙ্গনে রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি ও অবদান, যা তাঁকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখবে।”
বুধবার উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান মসজিদে ইলিয়াস জাভেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানি বলেন, “উনি আমাদের স্টারদের স্টার ছিলেন। আপনারা যদি আমাদের স্টার বলেন, তাহলে ইলিয়াস জাভেদ হচ্ছেন স্টারদের স্টার।”
তিনি জীবদ্দশায় আজীবন সম্মাননা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের আইকন হয়েও তিনি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পাননি—এই আক্ষেপটা আমাদেরই বেশি।”
ব্যক্তিজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ওমর সানি জানান, কয়েকটি সিনেমায় জাভেদের অধীনে কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। বলেন, “একদিন তাকে ভাই বললে তিনি আমাকে বলেছিলেন—‘তুমি আমাকে বাবা বলবা।’ এরপর থেকে আমাদের সম্পর্কটা বাবা-ছেলের মতো হয়ে যায়।”
জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরীর কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন সানি। তিনি বলেন, “শেষ ১৮ বছর জাভেদ সাহেব অসুস্থ ছিলেন। এই সময়টাতে আন্টি শিশুর মতো করে তাকে সেবা করেছেন।”
দীর্ঘদিনের বন্ধু ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “জাভেদ আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তিনি আমার বহু ছবির নৃত্যপরিচালক ছিলেন, এমনকি একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি পাকিস্তানে জন্মালেও এই দেশকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।”
রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক করেন। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমা তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। এরপর ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে সত্তর ও আশির দশকে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী নৃত্যপরিচালক।


