জাতীয়তাবাদী শক্তিকে উৎখাতের পরিকল্পনা হচ্ছে: রিজভী

জাতীয়তাবাদী শক্তিকে উৎখাতের পরিকল্পনা হচ্ছে: রিজভী
রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: বিএনপির ফেসবুক
Advertisement
Advertisement

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যারা অতীতে অভ্যুত্থানে জড়িত ছিলেন, তারা এখন সাংস্কৃতিক আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা করছেন। বিএনপি বরাবরই দেশের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চায় নেতৃত্ব দিয়েছে।’

রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া, রিজভী প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া কি সত্যিই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ?

তিনি বলেন, ‘যখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৮তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।’

আরও পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ইসলাম বহু আগেই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর মওদুদী মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করলে জনগণের প্রতিবাদ করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ জারি করে সাবেক ছাত্রদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, যা একচেটিয়া নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাকসু) নির্বাচনের প্রসঙ্গেও তিনি সমালোচনা করেন। তার দাবি, সরকারি প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানোর সুযোগ থাকার পরও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তা ছাপানো হয়েছে, যার মালিক একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ। এতে তিনি রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আঁতাতের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রিজভী আরও বলেন, ‘জাবির শিক্ষকরা এসব অনিয়ম দেখে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক মারাত্মক সংকেত।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এ দেশের মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, আবার টেলিভিশনে নাটক দেখে, গান শোনে—মানুষের জীবনযাপন বহুমাত্রিক। কিন্তু যদি একপাক্ষিক আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের সূচনা করবে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত রূপ হলো উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র ধর্মীয় রাজনীতি, যা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad