রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী চুয়া সেলিম, চাঁদ উদ্যানের কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রতন ওরফে বোমা রতন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বছিলায় র্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি জানান, জেনেভা ক্যাম্পের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিম ৩৬টি মামলায় অভিযুক্ত। হত্যা ও মাদক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
গত ২০ আগস্ট র্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেনেভা ক্যাম্পের একটি গোপন আস্তানায় চুয়া সেলিমের অবস্থানের খবর পায় র্যাব-২। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, চুয়া সেলিম দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন। এর আগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকে র্যাব-২ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, জয় ও মাহী গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারপিটে জড়িত। এলাকার ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া ও নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মিত তাদের চাঁদাবাজির শিকার হতেন। এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জয়কে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, র্যাব-২-এর অপর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার বিজলী মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে বোমা রতনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রসহ ২০টি মামলা রয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বোমা রতন দীর্ঘদিন ধরে গজনবী রোড, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্র চালাচ্ছিল। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গজনবী রোড এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ তাকে আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


