শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার আহম্মদ নগর থেকে বনগাঁও-চতল সড়কের ওপর নির্মাণাধীন ৭৫ দশমিক ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজের কাজ প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত ১৬ মাসের পরিবর্তে ৩৪ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ। এদিকে, কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে বনগাঁও, চতল, জিগাতলা, খা-পাড়া, কালাকুড়া ও আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বনগাঁও-চতল সড়কের ওপর ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্ব যৌথভাবে পায় মমিনুল হক-স্বর্ণা ব্রিক্স ও হালিমা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৮২৮ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১৬ মাস সময় বাড়িয়ে নেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেই বর্ধিত সময়সীমাও গত মাসে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। উল্টো কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের দুটি পিলার ও কিছু অংশের কাঠামো নির্মাণ হলেও এখনো অনেক কাজ বাকি। ফলে স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করছেন। নদীতে পানি বাড়লেই ডুবে যায় সাঁকোটি। এ ছাড়া পাহাড়ি ঢলে যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে সাঁকোটি।
বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, ‘তিন বছর ধরে শুধু কাজের আশ্বাস শুনছি। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বেড়ে যায়। রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’
একই এলাকার বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, ‘ব্রিজ না থাকায় বাজারে যেতে ও সন্তানদের স্কুলে পৌঁছাতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই যে অনেকদিন ধরে কাজ চলতাছে, কিন্তু শেষ আর হচ্ছে না। দুই থেকে তিনজন করে শ্রমিক দিয়ে কি আর ব্রিজের কাজ দ্রুত হবে।’
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার মাঝে মধ্যে কাজ করে আবার দীর্ঘদিন বন্ধ রাখে। এতে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হয়, তাহলে কেউতো বিয়েও করতে চাই না, দিতেও চাই না। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির কাজ শেষ হোক।’
তবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হারুন মিয়া বলেন, ‘স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে বিকল্প বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। কিছু জটিলতা থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে। ব্রিজটির কাজ শেষ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।’
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সে কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। আগামী শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’


