নোয়াখালী পৌর এলাকার হাসপাতাল রোড সড়কটি সংস্কারের পরদিনই পিচ উঠে গেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সংস্কার কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের মনমতো রাতের আঁধারে মানহীন নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কটি সংস্কার করায় পিচগুলো এক সপ্তাহও স্থায়ী হচ্ছে না। সবশেষ গত ৩ জুলাই সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়।
নোয়াখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সামনের হাসপাতাল সড়কটি দৈর্ঘ্য ১০৫০ মিটার। সড়কটির দুই পাশে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে।
সবশেষ ২০১৮ সালে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এক কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩১ টাকা ব্যায়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ করে। নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন সময় সড়কের পিচ উঠে মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। এতে স্থানীয়দের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২১ লাখ ২৯ হাজার ৪২১ টাকা ব্যায়ে সড়কটি সংস্কার করে।
অভিযোগ উঠেছে, শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একই প্রতিষ্ঠানকে আবার সড়কটি সংস্কারের কাজ দেওয়া হয়।
একই অর্থবছরে ফের সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে মেসার্স রহিম এন্ড সন্স নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা ব্যায়ে সড়কটিতে কার্পেটিং করে। চলতি অর্থবছরে সড়কটি পরপর দুইবার সংস্কার করা হলেও যথারীতি বছর না ঘুরতেই এটি ফের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
জনগণের ক্রমাগত ভোগান্তি ও দাবির মুখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যায়ে শারমিন ডেইরি এন্ড এন্টারপ্রাইজ সড়কটি আবারও সংস্কার করে।
চলতি বছর এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য ব্যয় করা হয় ৭৫ লাখ টাকা। তিনটি ভিন্ন প্যাকেজে ভাগ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন ও মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সকে দেওয়া হয় সংস্কার প্রকল্পের কাজ।
এরমধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স পায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যায়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক ও ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজ।

চলমান কাজের তিনটি প্যাকেজের অংশ নিয়েই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। তবে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের কাজে ‘হরিলুটের’ চাক্ষুষ প্রমাণ হাসপাতাল রোডের সংস্কার কাজ। গত ৩ জুলাই তারা সড়কটির সিলকোটের কাজ করে।অভিযোগ রয়েছে এতে মানহীন বিটুমিন ব্যবহার করেছে তারা। কাজের একদিন পরেই উঠে গেছে নতুন সড়কের পিচ।
মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা রুবেল অভিযোগ করেন, একটি সড়ক প্রত্যেক বছর সংস্কার করার নামে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার অসুস্থ রোগী যাতায়াত করতে হয়। এসব বিষয়ে যেন কেউই দেখে না।
নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাই বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বড় কোন হাসপাতাল না থাকায় আমরা মাইজদীতে আসি চিকিৎসা নিতে। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়কটিতে চলাচলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। সারা বছরই দেখি এই সড়কটিতে সংস্কার কাজ চলে। কিন্তু কখনোই সড়কটি পরিপূর্ণ চলাচল উপযোগী পাই না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মো. হানিফ বলেন, ‘কাজটি টেন্ডারে আমি পেলেও এটি আমি অন্য এক পার্টিকে দিয়ে করাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বৃষ্টি শেষ হলে আমরা সেগুলো আবার সংস্কার করে দেব।’
নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খাঁন বলেন, সবকিছু সংস্কারের যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। কাজটি দ্রুত সময়ে সংশোধনের জন্য আমরা তাদেরকে জানিয়েছি। চিঠির উত্তরে তারা কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করে দেবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’


