মার্শাল আর্ট শেখার আড়ালে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সাত সদস্যকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম রোববার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামক পেজ ও গ্রুপ খুলে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহ আমানত সাবির (২৩), মো. হোসাইন তানিম (২০), জুনায়েদ (২২), আতাউল্লাহ শাহ (৩২), মো. আবিদুর রহমান (২০), মো. বায়োজিত (৩০) এবং তাহসিন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসায়াব (১৯)।
গত শনিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রিমান্ডপ্রাপ্ত সাতজনসহ মোট ১৬ জন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক মামলা করেন।
এদিন কারাগারে আটক সাতজনকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে উগ্রবাদী ফাতাহ কমব্যাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে করে পুলিশ। আরেক আসামি তাহসীনকে যশোর থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
আসামিরা ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামক একটি উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যানারে একত্রিত হয়ে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামক ফেসবুক পেজ, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আসছিলেন। এসব প্ল্যাটফর্মের আড়ালে তারা উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের লিপ্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন- মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারনামীয় পলাতক ও অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ফাতাহ কমব্যাটে সিস্টেমের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এর আগে, গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ী থেকে এফসিএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ৯ জুলাই যশোর থেকে এফসিএস সদস্য তাহসীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উগ্রবাদী কাজে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
৮ জুলাই রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। সাবির, তানিমের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও অপর চার আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। আদালত সাবির ও তানিমের ফের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। অপর চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।


