তাইজুলের ঘূর্ণিতে বড় জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ 

তাইজুলের ঘূর্ণিতে বড় জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ 
সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের (২৪৯) মালিক এখন তাইজুল ইসলাম। ছবি: বিসিবি
Advertisement
Advertisement

ঠিক যেন আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা একে একে ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনারের জাদুতে। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পড়েছিল ৯৪ রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে পড়ল ১১৮ রানের মাথায়। শেষ দিকে বড় জুটির প্রচেষ্টা, সেটাও দুই ইনিংসে থামিয়েছেন বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম। তার স্পিন জাদুতে জয়ের সুবাস নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ৫১০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড। জয়ের জন্য আরো ৩৩৩ রান প্রয়োজন তাদের। 

এর মধ্য দিয়ে আড়াই বছর পর পঞ্চম দিনে গেল মিরপুরের কোনো টেস্ট। সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছিল পঞ্চম দিনে। এরপর থেকে মিরপুর খেলা পাঁচ টেস্টের সবগুলোই শেষ হয়েছে চার দিনের মধ্যে।

শুরু থেকেই আইরিশদের চেপে ধরেন তাইজুল। দলীয় ২৬ রানের মধ্যেই প্রথম দুই উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। সাকিবকে টপকে গিয়েছেন ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নিকে ফিরিয়ে। এলবিডব্লিউয়ের জোরালো আবেদনে আউট দেন অন ফিল্ড আম্পায়ার, সেই সিদ্ধান্তকে রিভিউ করে চ্যালেঞ্জ জানালেও হয়নি শেষ রক্ষা। সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দিনে তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার পল স্টার্লিং। তার চতুর্থ ওভারে ফ্লাইটেড এক ডেলিভারিতে এই শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাইজুলের তৃতীয় শিকার স্টিফ্যান ডোহেনি। মাঝে দুই উইকেট নিয়েছেন হাসান মুরাদ ও একটি পেয়েছেন খালেদ আহমেদ। সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন হ্যারি টেক্টর।

এর আগে স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৪ উইকেটে ২৯৭ রানে। ৩৬৭ রানের লিড থাকায় আইরিশদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫১০ রানের। 

আরও পড়ুন

শততম টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাসের ১১তম ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিমের সামনে সুযোগ ছিল পরের ইনিংসেও সেঞ্চুরি ছোঁয়ার। তবে চার ফিফটিতে বড় লিড নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয় এই ডানহাতি ব্যাটারকে। পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি করলে ছুঁয়ে ফেলতেন রিকি পন্টিংকে, যিনি একমাত্র ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে করেছেন দুই সেঞ্চুরি।

যদিও মুশফিক নয়, ইনিংস ঘোষণার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অপেক্ষা ছিল মুমিনুল হকের সেঞ্চুরির। কিন্তু সেঞ্চুরির দেখা পাননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। লাঞ্চ ব্রেক থেকে ফিরে লেগ স্পিনার গাভিন হোয়ের বলে সিলি মিড অফে কার্টিস ক্যাম্ফারের হাতে ক্যাচ দেয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানের পর  দ্বিতীয় ইনিংসে থেমেছেন ৮৩ রানে। সিলেট টেস্টে করেছিলেন ৮২। 

আউট হওয়ার আগে ১২৩ রানের জুটি গড়েছেন মুশফিকের সাথে। প্রথম ইনিংসেও দুজনের ছিল শতরানের জুটি। ২৮ তম ফিফটি ছোঁয়া মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৫৩ রানে। এর আগে  ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের ১১৯ রানের জুটিতে তৃতীয় দিনই বাংলাদেশের লিড ছাড়িয়ে যায় ৩৫০-এর বেশি। সেই জুটির এনে দেয়া শুরুর ওপর ভর করে চতুর্থ দিনের শুরুটাও ভালোই হয়েছিল স্বাগতিকদের, মুমিনুলের সাথে সাদমানের ৫৪ রানের জুটিতে। তবে সেই জুটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান, ব্যক্তিগত ৭৮ রানে এলবিডব্লিউ হয়েছেন অফস্পিনার ম্যাকব্রাইনের বলে।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ইনিংসে ৮ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটে দিয়েছেন জর্ডান নিলের বাউন্সারে স্লিপে ক্যাচ তুলে। টপ অর্ডারে টানা দুই ব্যাটার হারানোর ধাক্কা বাংলাদেশ কাটিয়ে উঠে মুমিনুল-মুশফিকের ব্যাটে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad