রাঙামাটির রাঙাপানি মিলন বিহারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ৫১তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। তুলা থেকে সুতা কাটা, বেইনকর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণ এবং বেইনঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন এই ধর্মীয় উৎসবের বেইনঘর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্প্রীতির বন্ধনে থাকা দরকার। কাউকে ধর্মীয়ভাবে, সামাজিকভাবে কিংবা অন্য কোনোভাবে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সকলের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সম্প্রীতির বাইরে কিছুই নেই। এই বন্ধনই আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে একসঙ্গে থাকার মূলভিত্তি।’

কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে বুদ্ধমূর্তিদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, হাজার প্রদীপ দান, সূত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা ও তুলা উৎসর্গসহ নানা দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গৌতম বুদ্ধের সময় থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যটি স্মরণে রাখা হয় প্রতি বছর। কথিত আছে, গৌতম বুদ্ধের প্রধান সেবিকা বিশাখা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে, রং করে, কাপড় বুনে ও সেলাই করে ভগবান বুদ্ধকে দান করেছিলেন।
বিশাখার সেই ঐতিহ্য রক্ষায় ১৯৭৩ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর লংগদুর তিনটিলায় মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে বাংলাদেশে প্রথম কঠিন চীবর দানের রীতি প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এ উৎসব পালন করে আসছেন।
এই ধারাবাহিকতায় রাঙাপানি মিলন বিহারেও আয়োজন করা হয়েছে কঠিন চীবর দানোৎসবের। বৃহস্পতিবার ছিল বেইন বুননের দিন, আর শুক্রবার রাঙামাটি রাজবন বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে প্রধান দানোৎসব।
উৎসবকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছেন রাঙাপানি মিলন বিহারে। ধর্ম দেশনা প্রদান করেন মিলন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ শ্বাসনাপ্রিয় মহাথেরো।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার সহধর্মিণী নন্দিতা চাকমা, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টির ট্রাস্টি ভবেশ চাকমা, মোনঘর পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কীর্তি নিশান চাকমা, মিলন বিহার কঠিন চীবর দানোৎসবের আহ্বায়ক রণজ্যোতি চাকমা, মোনঘর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অশোক কুমার চাকমা এবং সংগীত শিল্পী রনজিৎ দেওয়ান প্রমুখ।


