মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর।
গত বছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামলায় আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীতে পরিণত হয়েছেন।
রায়ের তারিখ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রসিকিউশেনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি করা হবে। আশা করি আদালত ১৭ নভেম্বর প্রজ্ঞা ও সুবিচার দিয়ে রায় ঘোষণা করবেন।’
রায়ের প্রতি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি আদালত বিচারের প্রতি জাতির আকাঙ্ক্ষার সুবিচার করবেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতি ঘটাবেন এবং এ রায় ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
এই অপরাধের দায়ে আসামীদের সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। রায়ের তারিখ ঘোষণার দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কেউ বিচার প্রক্রিয়া বানচালের জন্য কোনো হুমকি দেন বা কোনো কার্যক্রম করেন, তাহলে সেটা আদালতের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল হবে।’
শুরুতে শুধু শেখ হাসিনাই ছিলেন এই মামলার একমাত্র আসামি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অপসারণের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর মামলাটি করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি মামুনকে সহআসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুলাই পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া এবং রংপুর, ঢাকা ও আশুলিয়ায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা।


