পৌষের শেষে কৃষকের ধান ঘরে তোলা হলে অলস মাঠে ঘোড়দৌড়ের আয়োজনে ফুটে ওঠে আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। ঝালকাঠির নলছিটিতেই ধানকাটা শেষে ফাঁকা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে তেমনি এক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।
উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের শীতের উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ এই গ্রামীণ মেলা আর ঘোড়দৌড়। ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করেই মূলত এখানে মেলা বসে। এই মেলায় পাওয়া যায় মণ্ডা-মিঠাইসহ, টুকিটাকি গ্রামীণ তৈজসপত্র। আরও থাকে মুড়ি, মোয়া ও জিলাপি। সাথে শিশুদের মন ভোলাতে থাকে নাগরদোলার দুলুনি।
শুক্রবার বিকাল থেকে মেলায় নানা আয়োজনে আনন্দে মেতেছেন নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষ।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ধরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মকে বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। দর্শনার্থীরাও প্রতি বছরই এ প্রচলন ধরে রাখতে আয়োজকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর যোগ দেন। বিনোদনের টানে দুপুর গড়াতেই মাঠে হাজারো দর্শনার্থীর ভীড় জমে।
এদিন সন্ধ্যায় ঘোড়দৌড়ে অংশ নেওয়া প্রতিযোগিদের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে মেলা শেষ হবে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ইব্রাহিম খান শাকিল বলেন, ‘এক সময় শীতকালে ধান ঘরে তোলার পর গ্রাম বাংলার মাঠে-মাঠে ঘোড়ার টগবগ শব্দ শোনা যেত। ঢাকের তালে দর্শকদের উল্লাস দেখা যেত। ধানকাটা শেষে ধুধু মাঠে মেলার আয়োজন হতো। সেই মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। তবে এখন এসব হারাতে বসেছে। গোবিন্দপুর গ্রামে সেই বাংলার রূপ, রস আর গন্ধই যেন ফিরে ফিরে আসছে।’


