ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে একাধিক ছাত্রকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পদক্ষেপ নেয়।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর রসায়ন বিভাগের একাডেমিক কমিটি উপাচার্যের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায়, যার ভিত্তিতে উপাচার্য সিদ্ধান্ত নেন।
গত মঙ্গলবার রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দুইটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং প্রতিটি পত্রে অন্তত ৮ থেকে ৯ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেন।
এ ছাড়া, শিক্ষার্থীরা গতকাল রাত ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনও করেন এবং এর আগে মিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অধ্যাপক হালিম ‘বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের নিজের কক্ষে ডাকতেন, লাইট বন্ধ করে দরজা-জানালা বন্ধ করতেন, শারীরিক স্পর্শের দাবি করতেন, জোরপূর্বক যৌনাঙ্গসহ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন এবং অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন।’
রসায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ল্যাব পরীক্ষার সমস্যা দেখার কথা বলে তাকে ডাকেন ড. হালিম। তিনি দাবি করেন যে তার ‘নার্ভের সমস্যা’ আছে, যার কারণে তিনি ‘নারীদের স্পর্শ অনুভব করতে পারেন না’, কিন্তু ‘পুরুষদের শক্ত হাতের স্পর্শ’ অনুভব করতে পারেন। লাইট বন্ধ করে দরজা বন্ধ করে ‘মালিশ’ করতে বলার পর অধ্যাপক তাকে ‘যৌনাঙ্গ ধরে অমানবিক নির্যাতন’ করেন।
পরে রাতে আরেকবার ডাকলে, অধ্যাপক তাকে মারধর করেন এবং বলেন, ‘সব জামাকাপড় খুলে ফেল’। শিক্ষার্থী রাজি না হলে আবারও তাকে মারধর করা হয় এবং এরপর অধ্যাপক ‘যৌনাঙ্গ ও অণ্ডকোষ জোরে চেপে ধরে’ বলেন, ‘তোকে আমি হস্তমৈথুন করাব’।
শিক্ষার্থী জানান, ব্যথায় তিনি দুইবার অজ্ঞান হয়ে যান এবং পরে জ্ঞান ফিরে দেখেন যে অণ্ডকোষ ফোলা এবং তিনি সোজা হয়ে হাঁটতেই পারছেন না। এরপর অধ্যাপক তাকে চুপ থাকতে হুমকি দেন এবং তার হলে গিয়ে খোঁজও নেন।
তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষাজনিত সমস্যার কথা বলে তিনি অধ্যাপক হালিমের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে অধ্যাপক তাকে দরজা বন্ধ করতে, লাইট বন্ধ করতে, ‘শার্টের বাটন খুলতে’ এবং ‘বিছানায় শুয়ে পড়তে’ বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যাপক এরপর ‘শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেন’, যার মধ্যে ছিল ‘পেট, পেটের নিচের অংশ’, ‘যৌনাঙ্গের ওপর দিয়ে স্পর্শ’, ‘প্যান্টের ওপর দিয়ে নিচের অংশ স্পর্শ’ এবং ‘সরাসরি যৌনাঙ্গ স্পর্শের চেষ্টা’—যার পর তিনি প্রতিরোধ করে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার নম্বরকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
মিরপুর মডেল থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে শেওড়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে এরশাদ হালিমকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে পরবর্তীতে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ রোমান টাইমস অব বাংলাদেশ-কে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।


