চলতি বছরের ১ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ২১ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক আট শতাংশ পুরুষ ও ৪১ দশমিক দুই শতাংশ নারী রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৩৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যদি ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকে, তাহলে আগস্টে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন ও রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত ১৯ হাজার ৭২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
জুলাইয়ে দ্বিগুণ রোগী ও মৃত্যু
পুরো জুনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫১ জন। সে মাসে মশাবাহিত এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের। জুলাইয়ে রোগী ও মৃতের সংখ্যা পাওয়া যায় তার দ্বিগুণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৮৪ জন, এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের, যা চলতি বছরে এক মাসে সবচেয়ে বেশি। এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে গত জুনে, ১৯ জনের।
এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন জন, এপ্রিলে সাত জন, মে মাসে তিন জন মারা যান। মার্চ মাসে কোনও ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।
চলতি বছর জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন।
আগস্টে পরিস্থিতি হতে পারে উদ্বেগজনক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে না আসার প্রধান কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক কৌশলের অভাব। মশা নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যদি ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকে, তাহলে আগস্টে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইন্টিগ্রেটেড মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার চারটি উপাদানই–পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ–জরুরি। এই চারটি উপাদানকে একত্রে প্রয়োগ করতে না পারলে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’
নাগরিকদের সচেতন হতে হবে জানিয়ে এই কীটতত্ত্ববিদ বলেন, ‘এডিস মশা দেখতে কেমন, লার্ভা কেমন, কোথায় জন্মায় এসব জানতে হবে। তখন সে নিজে সতর্ক হতে পারবে এবং আশপাশকে নিরাপদ রাখতে পারবে।’
২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গুর তথ্য রাখতে শুরু করে সরকার। সে বছরে রোগী ছিল ৫ হাজার ৫৫১ জন। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এ যাবত ডেঙ্গুতে ৮৩ জন মারা গেছেন। ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন; তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
ডেঙ্গুতে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ মৃত্যুও দেখে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।


