রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকের বিষয়, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ব্যক্তির নাম নির্ধারণ। অর্থাৎ কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি-তা ঠিক করবে এই স্থায়ী কমিটি।
অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত হন ১৬ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১১ জন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দুজন সদস্য এখন মরহুম। তাদের একজন খালেদা জিয়া, অন্যজন জমির উদ্দিন সরকার। অপর তিনজনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, মির্জা আব্বাস বিদেশেই চিকিৎসা-পরবর্তী ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন। আরেকজন হাফিজউদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির সব পদ ছেড়েছেন।
সুতরাং অবশিষ্ট ১১ জনের ওপরেই রাষ্ট্রপতির নাম নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব। বিএনপি চেয়ারম্যানের অফিসের বাইরে মহাআগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন সংবাদপত্র, টেলিভিশন আর অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকরা; বৈঠক শেষ হলে হয়ত জানতে পারবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম।
ভেতরে বৈঠকের ভূমিকা বক্তব্য রাখলেন তারেক রহমান। এরপর একেক জনের কাছে জানতে চাইলেন তাদের মতামত।
শুরুতেই সিনিয়র হিসেবে মতামত দিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তারও নাম আছে। তিনিও মাঝেমধ্যে বয়সজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই কথা বলছেন খুব সতর্কভাবে। কারও নাম না নিয়ে বললেন, রাষ্ট্রপতি হতে হবে এমন একজন, যিনি বিএনপির জন্য অন্তপ্রাণ। যার সম্পর্কে কোনো রকম বিতর্ক আছে-এমন কাউকে রাষ্ট্রপতি করা ঠিক হবে না।
পরের পালা আব্দুল মঈন খানের। তিনিও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন। শুধু যোগ করলেন, রাষ্ট্রপতি হতে হবে এমন একজন যার নাম আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা পায়।
একই রকম মতামত দিলেন নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বেগম সেলিমা রহমান।
কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বললেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। প্রথমেই বললেন, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে টেনে আনলেন অতীতে বিএনপির শাসনামলে দুই রাষ্ট্রপতির কথা। বললেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধানের অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণেই এটা তিনি করতে পেরেছিলেন। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে সহজেই নতজানু হয়ে পড়েছিলেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। তাই রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত।
দ্বিতীয় আরেকটি মত দিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বললেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। বিএনপির মতো বিশাল বড় দলে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব বেশি কষ্টকর হবে না। গয়েম্বর চন্দ্র রায় আরও বললেন, বিএনপির শাসনামলে পাঁচজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছাড়া অন্যরা কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তাই বিএনপির সামনে আবার একজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ এসেছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পর মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি মাঠে-ময়দানে তার নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। পরবর্তী রাষ্ট্রপতির গুণাবলির সঙ্গে তিনি শুধু যোগ করলেন কয়েকটি কথা। যিনি মনেপ্রাণে উদার, প্রগতিশীল, সব রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের সব অঙ্গের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য-এমন মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত।
এজেডএম জাহিদ হোসেন নিজে কোনো মতামত না দিয়ে শুধু বললেন, দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলিষ্ঠভাবে দেশ চালাচ্ছেন। তিনি সিনিয়র নেতাদের মতামত মাথায় নিয়েই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করবেন বলে বিশ্বাস করেন।
সবশেষে মতামত জানাতে মুখ খুললেন তারেক রহমানের পর এই সময়কার বিএনপির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জাহিদ হোসেনের কথা টেনে শুরু করলেন তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচক্ষণতার কথা। বললেন, আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন তারেক রহমান। জানালেন দলের চেয়ারম্যানের যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি তার অবিচল আস্থার কথা। তাই রাষ্ট্রপতি মনোনয়নেও তারেক রহমান বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বললেন, রাষ্ট্রপতির নাম নির্ধারণের দায়িত্ব দলীয় প্রধান তারেক রহমানকেই দেওয়া হোক। তার এ কথায় সমস্বরে সায় দিলেন সবাই।
সবশেষে আবারও কথা বলেন তারেক রহমান। তার ওপর আস্থা রাখায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য হাতে আরও ৮০ দিনের মতো সময় আছে। তাই এ নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে একজন যোগ্য মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা হবে। এ কথা বলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের ইতি টানেন তিনি।
বৈঠক থেকে বের হয়ে কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন দুজন; মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রথমে মির্জা ফখরুল বললেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষমতা দিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কারও নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি।
(এই লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত মিলে গেলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয়)


