চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। রোববার একদিকে ঘোষণা হয়েছে দুটি নতুন প্যানেল, অন্যদিকে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ। একই দিনে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই কার্যক্রমও।
চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদকীয় পর্যায়ের স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করেছে ‘ভয়েস অব সিইউ’। প্রচলিত ধারা ভেঙে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী না দিয়ে তারা কেবল সম্পাদকীয় পদেই প্রার্থী ঘোষণা করে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, সম্পাদকরাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করেন, তাই কার্যকর ভূমিকা রাখতে সম্পাদকীয় পদগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’।
ভিপি পদপ্রার্থী মুহাম্মদ ফরহাদুল ইসলাম জানান, দখলদারিত্ব ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে তারা ৩১ দফা অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ক্যাম্পাস, নতুন হল নির্মাণ, গবেষণায় জোর দেওয়া, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
এদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রক্টরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তির দিনে তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, এক বছরের অভিজ্ঞতা বিশেষ হলেও প্রক্টরিয়াল কাঠামোতে এখনো ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নতুন প্রক্টর হিসেবে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীকে নিয়োগ দিয়েছে।
এদিকে রোববার থেকেই শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই। চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই কার্যক্রম চালান। সোমবার প্রকাশ করা হবে যাচাইয়ের ফলাফল।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


