শীতের মিষ্টি রোদ তখন মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে চিকচিক করছে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর আড়াইটা। রেফারির বাঁশিতে ফুঁ পড়তেই শুরু হলো স্টিক আর বলের ঠুকঠাক শব্দ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা নারী হকি খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখরিত হলো হকির এই ঐতিহাসিক ভেন্যু। ‘ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো ’-এর চূড়ান্ত পর্বের পর্দা উঠল বৃহস্পতিবার বিকেলে। উদ্বোধনী দিনেই গোলবন্যা দেখল ঢাকার দর্শক, যেখানে প্রতিপক্ষকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে খুলনা ও বরিশাল জোন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি মাঠে নেমে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের স্বাগত জানান। বক্তৃতায় সচিব নারী হকির উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান।
উদ্বোধনী দিনে মাঠে গড়ায় দুটি ম্যাচ। দিনের প্রথম ম্যাচটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জোন-২ (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) এবং জোন-১ (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ)-এর মধ্যকার এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে ঢাকা ও ময়মনসিংহ জোন। তারা ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রতিপক্ষকে। বিজয়ী দলের হয়ে প্রিতু সেন ও অপূর্ব আক্তার জান্নাতুল একটি করে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে জোন-১-এর হয়ে একমাত্র গোলটি পরিশোধ করেন রানী আক্তার রিয়ামনি।
তবে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে দেখা যায় একপেশে আধিপত্য। জোন-৩ (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে জোন-৪ (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ)-এর রক্ষণভাগ নিয়ে। কোনো সুযোগ না দিয়েই তারা ম্যাচ জিতে নেয় ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
আয়োজকরা জানান, এর আগে চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের চার চ্যাম্পিয়ন এবং বিকেএসপিসহ মোট পাঁচটি দল নিয়ে এই চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চূড়ান্ত পর্বে প্রতি জোনের দুটি বিভাগ মিলিয়ে একটি করে দল গঠন করা হয়েছে।
মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুক্রবার সকাল ১০টায় জোন-১ (রাজশাহী ও রংপুর) লড়বে শক্তিশালী জোন-৫ (বিকেএসপি)-এর বিপক্ষে। আর বিকেল ৩টায় দ্বিতীয় ম্যাচে জোন-২ (ঢাকা ও ময়মনসিংহ)-এর মুখোমুখি হবে জোন-৩ (খুলনা ও বরিশাল)।


