আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহে স্বস্তির চিত্র দেখা গেলেও খামারিদের মুখে নেই হাসি। জেলার সাত উপজেলায় ৬ হাজার ২২৫টি খামার ও গৃহস্থ বাড়িতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি গবাদিপশু, যা জেলার চাহিদার তুলনায় ২ হাজার ৮১২টি বেশি। তবে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। অনেকের আশঙ্কা, কোরবানির হাটে ভালো দাম না পেলে এবারও লোকসান গুনতে হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, বড়লেখা, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন খামার এবং বাড়িতে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১৬ হাজার ১৭৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া কুলাউড়ায় ১৪ হাজার ৯৬৪টি, বড়লেখায় ১২ হাজার ২৩৯টি, শ্রীমঙ্গলে ১০ হাজার ৪৯৪টি, রাজনগরে ৮ হাজার ১৬৭টি, জুড়ীতে ৬ হাজার ৮২৮টি এবং কমলগঞ্জে ৫ হাজার ৭১৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশু পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কেউ গরুকে বিশেষ খাবার খাওয়াচ্ছেন, কেউ নিয়মিত গোসল ও পরিচর্যা করছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক খামারে পশুর আকর্ষণীয় নামও রাখা হয়েছে।
তবে পশু প্রস্তুতের এই ব্যস্ততার আড়ালে বাড়ছে খামারিদের উৎকণ্ঠা। ভুসি, খৈল, ধানের কুড়া, খড় ও ঘাসসহ প্রায় সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি পশু পালনে খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
সদর উপজেলার কালিয়ারগাঁও গ্রামের খামারি ইমাদ মিয়া বলেন, ‘এবার কোরবানির জন্য ১৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। কিন্তু গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়েছে। তাই লাভ নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলের খামারি মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বড় তিনটি মহিষ ও কয়েকটি ষাঁড়সহ ১০টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছি। কিন্তু খড়, খৈল ও ভুষির দাম এত বেড়েছে যে পশু পালন করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরসংলগ্ন জেটি রোড এলাকার শ্রীমঙ্গল অ্যাগ্রো খামারের ম্যানেজার আরিফ হোসেন জানান, গত বছর তাদের খামারের আলোচিত ‘তুফান’ নামের বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি প্রত্যাশিত দামে বিক্রি হয়নি। প্রায় ১ হাজার ১৫০ কেজি ওজনের গরুটির দাম ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার বড় আকৃতির গরু প্রস্তুত করেননি তারা।
এদিকে জেলার বিভিন্ন খামারে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। অনেকে আগেভাগেই পছন্দের পশু দেখে বুকিং দিচ্ছেন। এতে কিছুটা আশাবাদী খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল খান বলেন, ‘স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই জেলার কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। অধিকাংশ খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।’


