ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। দেশটির জনগণের ‘গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য নরওয়ের নোবেল ইন্সটিটিউট তাকে এ পুরস্কার দিতে যাচ্ছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন।
নোবেল কমিটি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায়’ মাচাদোর অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন নিহন হিদানকায়ো, যা বিশ্বের নিরাপত্তা ও পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করেছে।
নোবেল কমিটি তার সম্পর্কে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাচাদো। তিনি প্রকৌশল ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেন এবং ব্যবসায় মন দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি অ্যাথেনিয়া ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা কারাকাসের রাস্তায় বেড়ে ওঠা শিশুদের কল্যাণে কাজ করে।
১০ বছর পর, তিনি ‘সুমাতে’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে। ২০১০ সালে তিনি জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন এবং রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তবে ২০১৪ সালে স্বৈরাচারী শাসন তাকে পদচ্যুত করে। মাচাদো বর্তমান ভেনেজুয়েলা বিরোধী দল ‘ভেন্তে ভেনেজুয়েলার’ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৭ সালে তিনি সোয়ি ভেনেজুয়েলা জোট প্রতিষ্ঠা করেন। এই জোট দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে কাটিয়ে উঠে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে।
২০২৩ সালে তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, তবে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া হলে তিনি বিরোধী দলের বিকল্প প্রার্থী, এডমুন্ডো গনজালেজ উরুটিয়ার পক্ষে সমর্থন জানান। বিরোধীরা ব্যাপকভাবে সংগঠিত হয়ে নির্বাচনের প্রকৃত বিজয়ী হওয়ার প্রমাণ সরবরাহ করে। তবে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জয় ঘোষণা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে।
নোবেল কমিটি বলছে, মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে প্রধানত ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র এগিয়ে নেওয়ার জন্য। গণতন্ত্র – যার অর্থ হলো নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার অধিকার। এটি বিশ্বের দেশে দেশে শান্তির মূল ভিত্তি।


