রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানায় উৎপাদিত ওষুধ অবৈধভাবে বাজারে পাচারের মামলায় আবদুল নূর নামে এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বেগম সিরাজাম মুনীরা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত আবদুল নূর কোতোয়ালী থানার দামপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পলাতক থাকায় অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ।
রায় ঘোষণার পর পলাতক নূরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার কেসি দে রোড এলাকার সিনেমা প্যালেসের সামনে অভিযান চালায় তৎকালীন এসআই কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ টিম। এসময় আবদুল নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাজারের ব্যাগ থেকে এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানির (ইডিসিএল) উৎপাদিত ছয় ধরনের প্রায় দুই হাজার পিস সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়, যা শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পদামে রোগীদের জন্য নির্ধারিত।
পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে নূর স্বীকার করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে মিলে এসব ওষুধ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করতেন তিনি।
এ ঘটনায় এসআই মাসুদ ইবনে আনোয়ার বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া।
২০১৪ সালের ১১ মার্চ বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আবদুল নূরকে দণ্ড দেওয়া হয়।


