গুলশানে নিজেদের কেনা ফ্ল্যাটে ‘দখলের অভিযোগে মামলা’ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ফ্ল্যাটে ঢুকতে চাই, এটি আমাদের সম্পত্তি। কেন আমরা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে পারব না?’
মঙ্গলবার গুলশানের নাভানা টাওয়ারের ‘কিউসি’ অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সামির কাদের চৌধুরী এসব দাবি করেন। তার ছোট ভাই সাকির কাদের চৌধুরীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমরা আমাদের ফ্ল্যাটে রিনোভেশন চালাতে চাই। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি, থানায় অবহিত করা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ সালে আমরা এই ফ্ল্যাটটি ডেভেলপার কোম্পানি সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড থেকে ক্রয় করেছি। ২০ বছর ধরে আমরা এখানে আছি, কিন্তু এখন এই বিষয়ে এক মহিলার খেয়াল আসছে।’
এ বিষয়ে ২০০৬ সালে গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয় তলা ভবন নির্মাণে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তি করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাড়ি বুঝে পান। কিন্তু ২০০৮ সালে মাইনুল ইসলামের মৃত্যু পর, সামসুল আলম এবং তার সহযোগীরা ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেছিলেন।
‘গত সাপ্তাহে আমাদের গার্ডরা যখন ফ্ল্যাটে রিনোভেশনের কাজ করছিল, তখন ফারজানা আন্না ইসলাম এবং তার ছেলেরা আমাদের মালামাল সরাতে বাধা দেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, এই ঘটনার ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে এবং তিনি পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এমএফ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের অফিস এখন বন্ধ রয়েছে। কারণ, ওই মহিলা আমাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না। গত ১০/১২ দিন ধরে আমরা অফিসে যেতে পারছি না।’
সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘ফারজানা আন্না ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলাটি একটি বানোয়াট মামলা, এবং এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আমরা গত ৪ বছর ধরে ওই বিল্ডিংয়ে আসি না। সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এবং সেই ভিডিও পুলিশের কাছে রয়েছে।’
তিনি জানান, ‘ফারজানা আন্না ইসলাম প্রায়ই আমাদের অফিস কর্মচারীদের এবং দ্বিতীয় তলার বাসিন্দাদের সঙ্গে ঝগড়া করেন।’


