আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার জবানবন্দি গ্রহণ করে।
আশরাফ কায়সার আদালতে বলেন, ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো ফ্যাসিবাদী ও সহিংস চরিত্র প্রকাশ করেছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী শক্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার একসঙ্গে চলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত, ২৫ হাজার জন আহত ও অঙ্গহানির শিকার এবং অসংখ্য সহিংস ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও সহিংস রাজনীতিতে ফিরে না যায়।
সাক্ষ্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের প্রধান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ এ আরাফাত, নিখিল, পরশ, সাদ্দাম, ইনান এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের দায় রয়েছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, তা না হলে আইনের শাসন দুর্বল হবে এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে।
আশরাফ কায়সার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর সদস্যরাও সহিংসতায় অংশ নেয়।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, সৈনিক লীগ ও শিশুলীগকে তিনি ‘সহযোগী শক্তি’ হিসেবে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখেছেন। তার অভিযোগ, সে সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব ঘটনার অনেকটাই জনসমক্ষে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।
আশরাফ কায়সার দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ১৪ দলীয় জোটের নেতারা গণমাধ্যমের সামনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনার ঘোষণা দেন, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পথ সুগম করে।
তিনি আরও দাবি করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ এ আরাফাত, নিখিল, পরশ, সাদ্দাম ও ইনান তাদের অধীনস্থ নেতাকর্মীদের ছাত্র অভ্যুত্থান দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ বারবার দেন।


