কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের আর্থিক খাতে অনিয়মের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও দেখা যায়।
আগের সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে তিনি উদ্যোগ নেন এবং এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। পাশাপাশি আমদানি–রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচার ঠেকাতে সাবেক এই গভর্নর পদক্ষেপ নেন বলেও জানায় এনসিপি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছিলেন মনসুর। এনসিপির অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সে কারণেই আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা হয়।
নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং কিছু কর্মকর্তা বিধিবহির্ভূত আচরণ করেন। সেখানে গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিকভাবে হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
এনসিপি আরও অভিযোগ করে, সরকার মনসুরকে না জানিয়েই নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে এবং ওই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী, যিনি আগে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণখেলাপি ছিলেন এবং বিশেষ সুবিধায় তার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল।
এনসিপির মতে, এ ধরনের নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে নতুন করে অর্থপাচারের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিবৃতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ নিয়োগের দাবি জানায়।


