শোকাহত মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় সংসদ চত্বরে চিরনিদ্রায় সমাহিত হলেন সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার। দুই দফা জানাজা শেষে রোববার তার মরদেহ জাতীয় সংসদের নির্ধারিত স্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে সাবেক এই স্পিকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সংসদ সদস্যরা তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
পরে বাদ আসর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পঞ্চগড়-তেতুলিয়ার আপামর জনগণ, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন। জানাজা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ জোহর মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাবেক এই স্পিকারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ও নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
সংসদে শোক ও স্মৃতিচারণ
সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারকে সততা, প্রজ্ঞা, শিষ্টাচার ও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণ করেছে জাতীয় সংসদ।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সংসদ সদস্যরা তাকে একজন সফল আইনজীবী, প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তার মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন সততা ও পেশাগত সুনামের অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কখনও কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
বক্তারা আরও বলেন, জমির উদ্দিন সরকার পেশাগত ও রাজনৈতিক—উভয় জীবনেই সফল এবং বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
তিনি সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছিলেন।
আলোচনা শেষে জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


