২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার দুপুরে ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আগামী মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫, বিকেল ৫টায় গণঅভ্যুত্থানের সকল পক্ষের উপস্থিতিতে জাতির সামনে এই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।’
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অচিরেই জানানো হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংসের একটি সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও লক্ষ্যকে ধারণ করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
জুলাই ঘোষণাপত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, রাজনৈতিক সংলাপ, এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে বলে সূত্রটি জানায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচিত বিষয়– জুলাই ঘোষণাপত্র। অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি সামনে রেখে সম্প্রতি এ ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলকে পাঠিয়েছে সরকার।
এর খসড়ায় ২৬টি দফা রয়েছে। প্রথম ২১ দফায় মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি বর্ণনা করা হয়েছে। পরের ৫টি দফায় বলা হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়।


