জুবায়ের তানিন, আবু ধাবি থেকে
বেশ দর্শক খরাই চলছে এশিয়া কাপের আবু ধাবি পর্বে। প্রথম ম্যাচে হংকং-আফগানিস্তান ম্যাচ সব মিলিয়ে শ খানেক দর্শকও ছিল না। বেচারা স্টেডিয়ামের ডিজে একাই চিৎকার করে গেছেন দুই দলের হয়ে। এশিয়া কাপ চলছে, প্রেস বক্সে বোঝারও উপায় ছিল না। তবে বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে জায়েদ স্টেডিয়ামের গ্যালারি কিছুটা হলেও জমজমাট ছিল। হাজার দুয়েক দর্শক দেখতে এসেছিলেন ম্যাচ, তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি প্রবাসী। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাসও বলেছিলেন, তাদের চাওয়া দর্শকরা যেন আসেন।
খেলা দেখতে আসা প্রবাসী দর্শক-সমর্থকদের অবশ্য নিরাশ করেনি বাংলাদেশ। হংকংয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়টা তারা মাঠে বসেই দেখতে পেরেছেন। ১৪৪ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ টপকে গেছে লিটনের দেড়শো ছাড়ানো স্ট্রাইকরেটে ৩৯ বলে খেলা ৫৯ রানের ইনিংসে। অবশ্য মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। এই ম্যাচটা না জেতার কোনো কারণ ছিল না বাংলাদেশের। ক্রিকেটের সংস্কৃতি, শক্তিমত্তা, কাঠামো সব মিলিয়ে দুই দলের ফারাক যে বিস্তর সেটা বুঝা গেল ম্যাচ শেষেও।
যদিও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এতদিন বাংলাদেশের সাথে মুখোমুখি দেখাতে এগিয়েই ছিল হংকং। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানদের হারিয়ে বেশ বড়সড় একটা চমক হয়ে এসেছিল দলটা। আজ অবশ্য তেমন কিছুর ইঙ্গিতও দিতে পারেনি আইসিসির সহযোগী দেশটি।
ঐতিহাসিকভাবে পেস ফ্রেন্ডলি আবু ধাবিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় হংকং। নতুন বলের সিম-মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে টানা সব ডট আদায় করেন তানজিম সাকিব। দুই আগুনে স্পেলে এক মেইডেন-সহ মাত্র ২১ রানে নেন দুই উইকেট। সেই তোপে হংকং পুড়েছে ঠিকই, তবে মাঝের দুটো চল্লিশ ছাড়ানো জুটিতে স্কোরবোর্ডে ১৪০-এর বেশি রান যোগ করেছে।
১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ফেরেন দুই ওপেনার। যদিও গেল কিছুদিন ধরে টি-টোয়েন্টিতে একটা অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তানজিদ তামিম-পারভেজ ইমনের পালা করে পারফর্ম করা। আজ অবশ্য দুই ওপেনারই ফিরেছেন জলদি, ইমন করেছেন ১৯, তানজিদ ১৪।
তিনে নেমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই নিজের হাতে নিয়ে নেন অধিনায়ক লিটন। চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের সাথে গড়েন এশিয়া কাপে বাংলাদেশের রেকর্ড ৯৫ রানের জুটি। যদিও ম্যাচ জেতানো এই জুটিতে বেশিরভাগ অবদানই লিটনের। ১৫ নম্বর ফিফটিটা পেয়েছেন ৩২ বলে। আউট হয়েছেন জয় থেকে দুই রান দূরে থাকতে আতিক ইকবালের বলে বোল্ড হয়ে। সব মিলিয়ে লিটন ফিরেছেন ৬ চার ও এক ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৯ রান করে।
এই জুটিতে একপ্রান্তে লিটন যতটা সাবলীল ছিলেন, হৃদয় ছিলেন ততটাই অগোছালো। যদিও রানের খাতাটা খুলেছিলেন পুল শটে চার মেরে। সেটাই শেষ এরপর আর কোনো বাউন্ডারির দেখা পাননি এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ ১০ ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি। ত্রিশ পেরোনো কিছু ইনিংস আছে বটে, তবে সেগুলোও ঠিক আদর্শ টি-টোয়েন্টি সূল্ভ নয়। বেশ কয়েকবার এই ইনিংসে চেষ্টা করেছেন হাত খুলে খেলতে, তবে কোনোটা হয়েছে মিসটাইমড, কোনোটায় ছিল না প্লেসমেন্ট আবার কোনো শটে ছিল না পাওয়ার। হৃদয় রান পেয়েছেন ঠিকই, তবে সেটা ধুঁকে ধুঁকেই। হংকং আর মাঝারি লক্ষ্য বলেই হয়তো তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি দলের রান রেটে, কিন্তু সামনে আফগানিস্তান-শ্রীলংকার মতো দলের বিপক্ষে এই ছন্দের ব্যাটিং বিপদেও ফেলতে পারে দলকে।
৩৬ বলে ৩৫* রানের ইনিংসে উইকেটে ছিলেন শেষ পর্যন্ত, হৃদয়ের জন্য এটা বাড়তি পাওইয়া হতে পারে এই ম্যাচে। তৃপ্তি নিতে পারেন উইনিং শটেরও। তবে যেদিন টপ অর্ডার পারফর্ম করবে না, লিটনের ব্যাট হাসবে না, সেদিন হৃদয়ের কাঁধে বাড়তি একটা দায়িত্ব বর্তাবে সেটা বলাই বাহুল্য।
বাংলাদেশি দুই পেসার তানজিম-তাসকিনের দাপটে হংকংকে আটকে রাখা গেছে সহজেই। রিশাদও নিয়েছেন তাদের মতো দুই উইকেট, যদিও একটু খরুচে ছিলেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের সাথে পেরে ওঠেনি হংকং ব্যাটাররা। সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংস নিজাকাতের, ৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন জিশান, ২৮ রান এসেছে অধিনায়ক ইয়াসিমের ব্যাট থেকে।


