আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১৫০টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সার্ভে করে জানতে পেরেছি, আগামী নির্বাচনে এনসিপির ১৫০টি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব এবং ৩০০ আসনে জয়ের জন্যই লড়ব।’
সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি-জামায়াত কয়টি আসন পাবে–সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমি বলতে পারব না। যারা ভোট দেবেন, তারাই বলতে পারবেন। বিএনপি অনেকগুলো সার্ভে করেছে, জামায়াতও করেছে। তবে আমি একবার বলেছিলাম বিএনপির আসন ৫০ থেকে ১০০-এর ওপরে যাবে না। এখন আপনারা বাস্তব চিত্র দেখতে পাচ্ছেন, দলটি তলানিতে যাচ্ছে।‘
তিনি বলেন, ‘সুখবর আসছে। এনসিপি নিবন্ধন পাবে বলে ইসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা শাপলাতেই আছি, এনসিপি কনফার্ম শাপলাতেই থাকবে। এটা সাদাও হতে পারে, লালও হতে পারে। বিধিমালায় সংশোধনের সুযোগ আছে। এর মধ্যে একটি প্রতীক না পেলে এনসিপি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।‘
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াতসহ যে দলগুলো আছে, তারা কিন্তু জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে এক জায়গায় আসতে পারছে না। এই দুটি দলের কারণে নির্বাচনটা বিলম্বিত হচ্ছে।’
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আপাতত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনটা ব্লক হতে যাচ্ছে। একটা ইসলামিক ব্লক ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। আরেকটা বিএনপির নেতৃত্বে হচ্ছে, আরেকটা আমাদের নেতৃত্বে হচ্ছে। আমরা বিএনপি-জামায়াতের ব্লকে যাচ্ছি না। আমরা গণঅভ্যুত্থানের সময় ইশতেহার দিয়েছিলাম।’
‘যেহেতু ফেসিবারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়নি, আমাদের সামনে দীর্ঘ লড়াই রয়েছে। গত ১৫ বছরে যে তরুণরা আন্দোলন করেছিল, অনেকেই দল সৃষ্টি করেছিল। তারা এখন এনসিপির ব্যানারে যোগ দেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। তবে কী প্রক্রিয়ায় হবে, সে বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি না, এখনো সংশয় আছে। সরকার সবাইকে অনেক ইনসিস্ট করছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু আমাদের যে জুলাই সনদটা আছে, তার আইনি ভিত্তি পার্সপেক্টিভ থেকে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘অনেকেই বিভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করে যে জামায়াত নির্বাচন চায় না, এনসিপি নির্বাচন চায় না। এগুলো হলো প্রোপাগান্ডা। যদি বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত সুন্দর একটা নির্বাচন কেউ চেয়ে থাকে, সেটা সবার আগে এনসিপি। কারণ, আমরা ভোট দিতে পারিনি। জুলাই সনদ যদি না হয় এবং বাংলাদেশের যে লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি আছে, সেখানে যদি কোনো মানদণ্ডগত পরিবর্তন না আসে, তাহলে তো সেই একই শেখ হাসিনার জায়গায় অন্য একজন বসছে। এজন্য আমরা এই জায়গাটা কনফার্ম করতে বলছি। আর এটা দলগুলো বসে সমাধান করলে তো ১০–১৫ দিনের কাজ।’
গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে একত্র হলে দলের নাম ও প্রতীক কী হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দলের নাম এনসিপিই থাকবে এবং এনসিপির প্রতীকই থাকবে। আমাদের অধীনে আরও অনেকগুলো দল আসছে। অনেকগুলো দল, অনেকগুলো ব্যানার ইনশাআল্লাহ এনসিপির ব্যানারে চলে আসবে।’
পিআর পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই স্পষ্ট করে বলতে চাই— আমরা উচ্চকক্ষে পিআর চাই, নিম্নকক্ষে চাই না।’


