তিন বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কলিত রাজস্ব বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, ‘আগামী ৮ আগস্ট চবির ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার প্রাক্কলিত রাজস্ব বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকার সংশোধিত রাজস্ব বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ৩৫তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই। এরপর আর কোনো সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা হলো সিনেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই অধিবেশনে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার সিনেট সভা আয়োজনের বিধান রয়েছে। আইনের ২৩ ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, উপাচার্য নির্ধারিত তারিখে সিনেট বছরে অন্তত একবার সভায় মিলিত হবে এবং সেটি বার্ষিক সভা হিসেবে গণ্য হবে।
একই আইনে সিনেটের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেটের প্রস্তাবক্রমে সংবিধি সংশোধন ও অনুমোদন, সিন্ডিকেটের উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদন, হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক প্রাক্কলন বিবেচনা ও অনুমোদন, এবং আইন বা সংবিধি অনুযায়ী অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত তিন বছর সিনেট অধিবেশন না হওয়ায় এসব বিষয়ে সিনেটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ১২টি ক্যাটাগরিতে মোট ১০২টি সদস্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন উপাচার্য, দুই উপউপাচার্য, সরকার, জাতীয় সংসদের স্পিকার, আচার্য ও সিন্ডিকেট মনোনীত সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।


