টানা ছয় দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় রাঙ্গামাটিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষিজমি, মাছের খামার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১ হাজার ৪৪টি পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৭ জন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। এছাড়া বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন, বরকল উপজেলা এবং ছোট ও বড় হরিণা বাজার এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন উপজেলায় ১৩১টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও বসতবাড়ি ও বাজারে কাদামাটি জমে নতুন করে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ছোট ও বড় হরিণা বাজারে এখনো পানি না নামায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি ও বাজার কাদায় ভরে গেছে। বাজারের অধিকাংশ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষিজমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার বাবুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শুভতম চাকমা বলেন, পানি নেমে গেলেও তাদের বাড়ি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। কেউ একাধিকবার সহায়তা পেলেও অনেক পরিবার মাত্র একবার ত্রাণ পেয়েছে।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, বন্যায় জেলার প্রায় ৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭১৭ হেক্টর ধানের জমি রয়েছে। এছাড়া জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর ও মাছের খামার প্লাবিত হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
এদিকে রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান মহাসড়কসহ আঞ্চলিক ছয়টি সড়কের ২৬টি স্থানে ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতে মেরামত কাজ চলছে। বান্দরবান সড়কের একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকল্প রাজভিলা সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্যায় পর্যটনের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিসহ জেলার সব ঝর্ণা ও পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।


