রক্তে উচ্চমাত্রায় বিষাক্ত সিসার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় এখন এক ভয়াবহ মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। মানুষের শরীরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সিসার উপস্থিতি গবেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিলের (ইউনিসেফ) তথ্য অনুযায়ী, সিসার দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। দেশের প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা বহন করে চলেছে।
গত এক দশকের গবেষণা এই ভয়ানক বাস্তবতাকে বারবার সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ২০২২-২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুর রক্তেই সিসার উপস্থিতি মিলেছে এবং এর গড় পরিমাণ প্রতি লিটারে ৬৭ মাইক্রোগ্রাম।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সিসা সংশ্লিষ্ট কলকারখানা বা অবকাঠামোর এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা, পাঁচ কিলোমিটার দূরে থাকা শিশুদের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০০৮-২০০৯ সালের আইসিডিডিআরবি’র গবেষণাতেও ঢাকা, মতলব ও রংপুরে ব্যাপক সিসা দূষণের চিত্র উঠে এসেছিল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মানবশরীরে সিসা গ্রহণের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৫ মাইক্রোগ্রাম সিসাকে একটি মানদণ্ড হিসেবে ধরে। তবে সিসার ক্ষতি এই সীমার অনেক নিচেও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
সিসা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশকে পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত করে। এটি বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ কমিয়ে দেয়, মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করে, আচরণে পরিবর্তন আনে এবং শারীরিক বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়। রক্তে সিসার পরিমাণ যদি প্রতি ডেসিলিটারে ৭০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হয়, তবে মানুষের খিঁচুনি হতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ যখন একের পর এক নৃশংস সামাজিক সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন গবেষকরা নতুন একটি বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তারা ভাবছেন, এই সিসা দূষণই কি দেশের মানুষকে ক্রমেই চরম সহিংস ও আগ্রাসী করে তুলছে?
বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘকাল ধরেই সিসা দূষণের সঙ্গে মানুষের খিটখিটে মেজাজ, বুদ্ধিবৃত্তিক ঘাটতি এবং আচরণগত অবক্ষয়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন, এই বিষাক্ত সিসা হয়তো নিঃশব্দে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন বদলে দিচ্ছে এবং সারা দেশে আগ্রাসী মনোভাব বাড়িয়ে তুলছে।
আইসিডিডিআরবি’র ডা. জেসমিন সুলতানা এই প্রতিবেদককে জানান, সিসা দূষণের সঙ্গে স্নায়ুবিক ক্ষতি, খিটখিটে মেজাজ ও আচরণগত পরিবর্তনের সুষ্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের খতিয়ে দেখার সময় এসেছে যে, বাংলাদেশের মানুষের আচরণে এই মারাত্মক পরিবর্তনের পেছনে আসলেই এই ভারী ধাতুর ভূমিকা রয়েছে কি না।’
তথ্যের ঘাটতি ও ইতিহাসের শিকড়
সিসা দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণ করা বেশ কঠিন। কারণ, বাংলাদেশ কেবল ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে’-এর মাধ্যমে দেশব্যাপী সিসা দূষণের প্রথম তথ্য হাতে পায়।
ডা. সুলতানা উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ করা বাস্তব তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।’
সিসা দূষণ নিয়ে আইসিডিডিআরবি গবেষণার শুরুতে মূল ফোকাস ছিল ভেজাল হলুদ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হুমকির ধরন বদলেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমানে সিসা গলানো বা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত ছোট-বড় সব ধরনের শিল্প, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানাগুলো এই দূষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
আইসিডিডিআরবি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ২০০৮-২০০৯ সালের গবেষণায় ঢাকা, চাঁদপুরের মতলব এবং রংপুরের শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গিয়েছিল। বাংলাদেশ নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে পেট্রোল থেকে সিসা অপসারণে সফল হলেও বর্তমানে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিয়ন্ত্রিত পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের কারণে দূষণের এক নতুন ও মারাত্মক উৎসের সৃষ্টি হয়েছে।
আমেরিকান অর্থনীতিবিদ রিক নেভিনের একটি গবেষণা শৈশবে সিসার সংস্পর্শে আসা এবং পরবর্তী জীবনে সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের কথা বলে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে করা নেভিনের এই গবেষণা দেখায়, শিশুদের সিসা দূষণের শিকার হওয়ার ঠিক ১৮ থেকে ২৩ বছর পর সেসব দেশে সহিংস অপরাধের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা মূলত একটি ধীরগতির আচরণগত টাইম-বোমা।
‘বাংলা টেসলা’র বিষাক্ত পথচলা
বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ ই-রিকশা, যা স্থানীয়ভাবে ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত, পরিবেশের এক গভীর বিপর্যয়কে আড়াল করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ যখন এই বাহনের সড়ক নিরাপত্তা এবং আইনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যস্ত, তখন এর আসল চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। এই বিষাক্ত ধাতু ঘরের ধুলা, মাটি এবং বাতাসে মিশে শিশুদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে।
এই ই-রিকশাগুলো মূলত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখার কারণে চালকদের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এই ব্যাটারিগুলোর আয়ু মাত্র কয়েক মাস। ই-রিকশার সংখ্যা যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফেলে দেওয়া ব্যাটারির পরিমাণ, যা একটি বিশাল এবং অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিং চক্র গড়ে তুলেছে।
শহরের উপকণ্ঠে এবং গ্রামীণ এলাকায় কোনো ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা সরকারি নজরদারি ছাড়াই শ্রমিকরা হাত দিয়ে এই ব্যাটারিগুলো ভাঙেন এবং ‘ভাট্টি’ নামের অস্থায়ী চুল্লিতে গলিয়ে সিসা আলাদা করেন। কোনো পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এই বিষাক্ত ধোঁয়া সরাসরি ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের লোকালয়ে।
স্বল্পস্থায়ী ব্যাটারি, দীর্ঘস্থায়ী দূষণ
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ট্যানারি পুকুরপাড় এলাকার গ্যারেজ মালিক রবিউল জানান, প্রতিটি রিকশায় চারটি ভারী ব্যাটারি লাগে যা মাত্র তিন মাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিটি ব্যাটারিতে প্রায় ১২৫ কেজি সিসা থাকে, যা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক বর্জ্য তৈরি করছে।
অধিকাংশ সময়ই এই বর্জ্যগুলো চলে যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মতো খোলা আকাশের নিচের অবৈধ রিসাইক্লিং সাইটগুলোতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পিওর আর্থ বাংলাদেশের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, শ্রমিকরা সাধারণ হাতুড়ি দিয়ে ব্যাটারি ভাঙছেন এবং আদিম পদ্ধতিতে সিসা গলাচ্ছেন।
এর খেসারত দিতে হচ্ছে আজীবন। স্থানীয় এক মা যিনি গর্ভাবস্থায় এই দূষণের শিকার হয়েছিলেন, তার ১৩ বছরের ছেলে এখন মারাত্মক মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে। দুই বছর আগে পরীক্ষায় সেই ছেলের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৪৭ দশমিক ১৩ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গিয়েছিল।
এই পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিপর্যয় এখন জেলা থেকে জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। খুলনার লবণচরা এলাকার সাবেক স্কুলশিক্ষক কাজী সাদিকুজ্জামান জানান, একটি অবৈধ ভাট্টির কারণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তার স্কুলের ওপর ভূতুড়ে সাদা ধূলার আস্তরণ জমে থাকত।
১৫ বছরের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাব্বির জানায়, চোখ জ্বালাপোড়া এবং মারাত্মক হাঁপানি নিয়ে তার শৈশব কেটেছে। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল।
একইভাবে নরসিংদীর ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা ‘শিন ইউয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর লড়াই করেছেন। কারখানাটির ধূসর ধোঁয়া স্থানীয় সেচের পানি বিষাক্ত করে তুলেছিল এবং আশেপাশের পুকুরের মাছ মেরে ফেলেছিল। স্থানীয় প্রকৌশলী রকিব গাজীর নেতৃত্বে এক দশকের আন্দোলনের পর গত বছর কারখানাটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
সিসার কোনো নিরাপদ সীমা নেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. রোবেদ আমিন জানান, দূষিত মাটি, শিল্পের রং, ভেজাল মসলা, প্রসাধনী, খেলনা এবং পুরনো পানির পাইপের মাধ্যমে সিসা মানবশরীরে প্রবেশ করে। শিশুদের জন্য এই হুমকি সবচেয়ে বেশি মারাত্মক।
অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সিসা দূষণ কিডনির ক্ষতি এবং হৃদরোগের জটিলতা তৈরি করে। যেহেতু এই লক্ষণগুলো ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যায়, তাই মানুষ সাধারণত সিসা দূষণের পরীক্ষা করায় না।
এই জনস্বাস্থ্য সংকট এতটা ভয়াবহ হওয়া সত্ত্বেও তা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলো স্থবির হয়ে আছে। ২০২২ সালে ডা. আমিন ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরবি’র সঙ্গে যৌথভাবে সিসা দূষণ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় নির্দেশিকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
বিষের বিনিময়ে কর্মসংস্থান
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউনেপ)-এর মতে, বাংলাদেশে ১১শ’র বেশি অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা চালু রয়েছে। এই ভাট্টিগুলো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে প্রায়ই জায়গা পরিবর্তন করে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় দরিদ্র শ্রমিকদের আয়ের বড় উৎস এটি।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অবৈধ ব্যবসা দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। মনসুর নামের এক শ্রমিক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ভাট্টিতে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি জেনেও তিনি কাজ ছাড়তে পারছেন না। কারণ, এটিই তার একমাত্র আয়ের উৎস।
পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াটি যেমন আদিম, তেমনই প্রাণঘাতী।’ তিনি জানান, মূল ধারার বড় ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা বাজারের মাত্র ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে—তারা অনেক সময় এই অবৈধ ভাট্টিগুলো থেকে কম দামে সিসার বার বা ইনগট কিনে থাকে।
অবশ্য পান্না ব্যাটারি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার সাজ্জাদুর রহমান এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার কোম্পানি সিসার জন্য সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী এবং তারা কেবল বৈধ আমদানি ও নিজস্ব রিসাইক্লিংয়ের ওপর নির্ভর করে।
মিতালী দাস মনে করেন, এই চক্র ভাঙতে কেবল মাঝে মাঝে অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। এর জন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি এবং সুরক্ষার মানদণ্ড নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ধূসর আইনের সংকট
ই-রিকশা সংকট এখন এমন এক আইনি গোলকধাঁধায় পড়েছে যেখানে কাগজের আইনের সঙ্গে সড়কের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা শহরে অননুমোদিত থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ‘বাংলা টেসলা’র সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিআরটিএ’র অপারেশনস ডিরেক্টর মীর আহমেদ তরিকুল ওমর স্বীকার করেন, এই বাহনগুলোর সিংহভাগই কোনো অনুমোদন ছাড়া চলছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এখন এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
রাষ্ট্র নিজেই এখন নীতিগত দ্বন্দ্বে রয়েছে-কর্মকর্তারা একদিকে বলছেন লাখ লাখ মানুষের জীবিকার কথা চিন্তা করে অভিযান শিথিল করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিআরটিএ নতুন কোনো লাইসেন্স দিচ্ছে না।
এই আইনি শূন্যতা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে ব্যাটারির বাজারে। বিআরটিএ বিষাক্ত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি বন্ধ করতে কেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিচালিত যানের অনুমতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে রাস্তায় সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারিরই রাজত্ব চলছে।
তরিকুল ওমর সতর্ক করে বলেন, এই সমস্যা এখন আর কোনো একক সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সিসার এই বিষাক্ত প্রবাহ থামাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের একাধিক বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।


