নতুন সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে।’
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহেই চিঠি দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকার বুধবার থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’
রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।’
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একই সঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি খাতকে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান।
রমজানের বাজার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে।
তিনি বলেন, ‘বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল।
তিনি বলেন, ‘মানুষ সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বাড়ে এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে।’ তবে এ প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো একটি স্থিতিশীল পরিবেশ।’
তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যাবে। দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।’
তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকাটা দেশের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রমজান মাস শুরুকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রমজান মাস সামাল দেওয়াটাই এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারকে সফল হতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো শরীফুল আলম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সচিব মাহবুবুর রহমান। পরে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


