কারও কোলে ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কিত ছোট্ট শিশু, কারও হাতে জীবনের শেষ সম্বলটুকু। চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। এই সর্বগ্রাসী রূপের মাঝে সবাই হন্যে হয়ে খুঁজছেন একটুকরো শুকনো মাটি আর একটু নিরাপদ আশ্রয়। কোথাও আশি বছরের বৃদ্ধ বাবাকে পিঠে নিয়ে অসহায় সন্তানের আকুতি, আবার কোথাও দুই বছরের নিষ্পাপ শিশুকে দাফন করার মতো এক চিলতে শুকনো জমিও মিলছে না।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানির তোড়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তৈরি হয়েছে এক প্রলয়ংকরী দুর্যোগ। চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে জনজীবন এখন কার্যত অচল। বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস আর সড়ক বিচ্ছিন্নতায় লাখ লাখ মানুষ এখন প্রকৃতির কাছে জিম্মি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত ৭টি জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। এর মধ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজারেই ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ মারা গেছেন ২৩ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৮ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব জেলার প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ দক্ষিণ চট্টগ্রাম: ত্রাণের জন্য হাহাকার
শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ আর আশ্রয়ের তীব্র সংকটে হাহাকার করছেন বানভাসিরা।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ডলু খালের বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানি মুহূর্তেই ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। এতে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা এখনো পানির তলায়। পানিবন্দী হয়ে আছেন দুই লাখেরও বেশি মানুষ। হাজার হাজার বসতবাড়ি, দোকানপাট, কৃষিজমি আর গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। রান্নাঘরে পানি ঢোকায় বহু পরিবার দিন ধরে চুলাই জ্বালাতে পারেনি। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে, আবার অনেকে টিনের চাল বা উঁচু জায়গায় বসে আকাশের দিকে চেয়ে আছেন।

সাতকানিয়ার বাসিন্দা রহমতউল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত কেউ ত্রাণ দিতে বা পরিস্থিতি দেখতে আসেনি। বাচ্চারা শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, খাবার পানিও শেষ। এখন তারা প্লাস্টিক দিয়ে মাথা ঢেকে বসে আছে।’
তিন বছরের সন্তান নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠা সফুরা হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘এখানে আমাদের খেয়াল রাখার তো কেউ নাই। কয়টা ভাত খাইতে পারলে শান্তি লাগতো। শুকনো খাবারে আর হইতেছে না। ঘর-বাড়ি পানিতে গেছে, খোদায় বাঁচায় রাখসে।’
ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রায় ৪০ লাখ টাকার শুকনো খাবার কিনে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। নতুন বরাদ্দও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মরদেহ দাফনের মাটি নেই
প্রতিনিয়ত তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বন্যা। শুক্রবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ রূপকানিয়া এলাকায় পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় দুই বছরের শিশু ইসমাইল হোসেন। তার বাবা জয়নাল আবেদীন জানান, কিছুক্ষণ পর খুঁজতে গিয়ে বাড়ির পাশের বন্যার পানিতেই তার নিথর দেহ পাওয়া যায়।
একই দিন বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নেও বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে ডুবে মারা যায় আরও দুই শিশু। এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন জানান, ‘মরদেহ দাফনের জন্যও শুকনো জায়গা মেলেনি। পরে কিছুটা উঁচু এলাকায় এক পুকুরপাড়ে কবর দিতে হয়েছে।’
সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নে ঘটেছে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। আলতাব আলী চৌধুরী জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে সাঙ্গু নদীর পানি ঢুকে তীব্র স্রোতে একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনটি লাশ কবর থেকে ভেসে গিয়ে পাশের ঝোপঝাড়ে আটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা মরদেহগুলো উদ্ধার করে অন্য একটি নিরাপদ কবরস্থানে পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করেন।
নিঃস্ব মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই
বাঁশখালীর ধ্বংসস্তূপের মাঝে বাসেত আলী আর মরিয়ম বেগমের সংসার। বেড়া-মাটির দেয়ালের ঘরটির ভাঙা অংশ কোদাল দিয়ে সরাচ্ছিলেন বাসেত, আর পাশে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছিলেন স্ত্রী মরিয়ম। মরিয়ম বেগম বলেন, ‘মাটির ঘরটাই ছিল আমাদের সম্বল। হঠাৎ বন্যার ঢল এল। মুহূর্তেই ঘর তলিয়ে গেল। মাটির দেয়াল ভেঙে পড়তে শুরু করল। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হয়ে আসি। এখন কোথায় থাকব, কী খাব, কিছুই জানি না।’
বাসেত আলী জানান, পানি ওঠামাত্র দেয়াল নরম হয়ে ধসে পড়ে, পরে ঝড়ে টিনের চালও ভেঙে যায়। এখন থাকার মতো ঘরের কিছুই অবশিষ্ট নেই তাদের।
বাঁশখালীর কিছু এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি কিছুটা কমলেও উপকূলঘেঁষা এলাকাগুলোয় এখনো পানি নামেনি। ফলে বেশিরভাগ পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে বা আত্মীয়ের বাড়িতে গেলেও ঘরের মালামাল পাহারা দিতে পুরুষ সদস্যরা পানিবন্দী বাড়িতেই থেকে যাচ্ছেন। একদিকে পরিবারের নিরাপত্তা, অন্যদিকে সারা জীবনের সঞ্চয় রক্ষার চেষ্টা—এই দুই সংকটের মাঝে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বাসিন্দারাও একই দুর্ভোগের মুখোমুখি। লোহাগাড়ায় পানি কিছুটা কমলেও সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো প্লাবিত। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে সেখানে এখনো পানিবন্দী প্রায় চার লাখ মানুষ। সাঙ্গু নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। লোহাগাড়া সদর, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও পানি রয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
চন্দনাইশেও পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। বাড়িঘর, উঠান আর গ্রামীণ সড়কে এখনো হাঁটুসমান পানি, কৃষিজমি ও পুকুর তলিয়ে আছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দী।
সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভগবানহাট, বড়ুয়াপাড়া, যতরকূল, মুন্সিভিটা ও নাজিরহাট এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে সড়ক ও উঠানে জমে আছে পানি। তিন দিন ধরে পানিবন্দী থাকলেও অনেক পরিবার এখনো কোনো ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শঙ্খ নদীর তীরবর্তী দোহাজারী পৌরসভার রায়জোয়ারা ও খিল্লাপাড়া এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য ত্রাণ পৌঁছালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে সাড়ে চার মেট্রিক টন করে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বাকিদের কাছেও দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
বিপর্যস্ত অন্যান্য পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল
কক্সবাজারের ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টিই ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে পানিবন্দী ২ লাখের বেশি মানুষ। জেলার পেকুয়ায় ১৫ হাজার, মাতামুহুরী এলাকায় ১০ হাজার ও চকরিয়ায় ১৮ হাজার পরিবার এখনো পানির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বান্দরবানে পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে তৈরি হয়েছে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি।
রাঙ্গামাটিতে ভারী বর্ষণে ঘটেছে ১২৫টিরও বেশি পাহাড়ধসের ঘটনা, যাতে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টানা চার দিন ধরে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ। কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত। দীঘিনালা-লংগদু সড়ক এখনো বন্ধ, তবে দীঘিনালা-সাজেক ও খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
প্রশাসনের হিসাবে এই এলাকার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাত হাজার পরিবার ঠাঁই নিয়েছে, যেখানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
চেঙ্গী নদীর পানি কমায় খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি সরলেও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এতে কৃষিজমি, সবজিখেত ও পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রেও অনিরাপদ নারী ও শিশুরা
প্লাবিত জনপদ ছেড়ে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন স্কুল, কলেজ ও সাইক্লোন শেল্টারের মতো অস্থায়ী কেন্দ্রে। কিন্তু নিরাপত্তার আশায় সেখানে গিয়েও নারী ও শিশুদের জন্য তৈরি হচ্ছে আরেক ধরনের সামাজিক ও মানসিক ঝুঁকি। নারী-পুরুষের মিশ্র অবস্থান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা আর অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় যৌন হয়রানি, কটূক্তি ও নির্যাতনের আশঙ্কা বাড়ছে।
পুলিশ স্টাফ কলেজের ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী নারী ও শিশুদের একটি বড় অংশ যৌন হয়রানি, কটূক্তি বা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হন। গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ নারী ও শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাকালে এমন কোনো না কোনো তেতো অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, যে আশ্রয়কেন্দ্র হওয়ার কথা নিরাপত্তার শেষ ঠিকানা, বাস্তবে তা-ই যেন হয়ে উঠছে ভয়ের আরেক নাম।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন বন্যার পদধ্বনি
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সাতটি জেলা ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত হওয়ার পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও আটটি জেলা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে ইতিমধ্যে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে, আর সিলেট-সুনামগঞ্জকে রাখা হয়েছে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায়।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। একই অবস্থা দিরাই উপজেলার মার্কুলি এলাকায় এবং সদর উপজেলার কোরবাননগর, মোল্লাপাড়া ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের নিচু এলাকাতেও।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৪৫ মিলিমিটার, যা আগামী দুই দিনও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে আরও, আর বহু নিচু এলাকার মানুষ ইতিমধ্যেই পানিবন্দী।
ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা
ভোগান্তির চূড়ান্ত ছাপ পড়েছে যাতায়াত ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বহু এলাকায় যাতায়াত বন্ধ। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় এখন অনেকের কাছে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর একমাত্র ভরসা নৌকা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের ষোলশহর সেকশনে জানআলীহাট স্টেশন এলাকার প্রায় ৬ কিলোমিটারের বেশি অংশ এখন পানির নিচে। প্রকৌশলীরা পাথর ফেলে লাইন মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন চট্টগ্রামে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনও এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বিপদ
টানা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগরের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকাল পর্যন্ত আগের ৫১ ঘণ্টায় নগরীতে মোট ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিতে নগরীর সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে মুজগুন্নি, রয়্যাল মোড়, টুটপাড়া, জিন্নাহ নগর, দৌলতপুর, আত্রা, গিলতলা, দিলখোলা, বানারগাতি ও শেখপাড়া এলাকা।


