নওগাঁর বেসরকারি সংস্থা সমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ১৮০ কোটি টাকার আমানত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমানত ও লভ্যাংশ ফেরত না পেয়ে শনিবার সকাল থেকে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন শত শত গ্রাহক। পরে পুলিশ সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান শাহিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের খলিশাকুড়ি এলাকায় সমতার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুপুরে শাহিনকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি সঞ্চয়, ডিপিএস ও বিভিন্ন আমানত সংগ্রহ করত। প্রতি লাখ টাকায় মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা মেয়ের বিয়ে, সন্তানের লেখাপড়া, বাড়ি নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য নিজেদের আজীবনের সঞ্চয় সেখানে জমা রেখেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, করোনা মহামারির পর প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আমানত ফেরত চাইতে এসে গ্রাহকেরা বারবার কর্তৃপক্ষকে না পেয়ে ফিরে যান। ২০২৪ সালের শেষদিকে কার্যক্রম প্রায় গুটিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান শাহিন।
পরে ফিরে এসে তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সব টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। এর আগে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বকেয়া লভ্যাংশের অর্ধেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা বাস্তবায়ন না করে আবার ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় চান। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও অর্থ পরিশোধ না করায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভের সময় নওগাঁ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, আমানত আটকে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম দুর্দশায় পড়েছে। কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না, কেউ বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, আবার কেউ চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে শাহিনকে আটক করে থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


