দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক আগুনের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত পাঁচ দিনে তিনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, নাশকতা বা আগুনের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শনিবার রাতে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
সরকার জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আগুনের ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ সম্পর্কে তারা গভীরভাবে অবগত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সকল নাগরিককে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই–নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যদি এসব নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় জনমনে আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের বিবেচনা ও দৃঢ়তার ওপর প্রাধান্য দিতে দেব। বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। আমরা ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
এদিকে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট। রাত ৯টায় ফের বিমান চলাচল শুরু হয়।
এদিন বিকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বেলা সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটে আগুন লাগে। পরে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার পর বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। উদ্ধার সহায়তায় যোগ দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দুটি প্লাটুন।
আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে সিভিল এভিয়েশন, ফায়ার সার্ভিস ও বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট আগুন নির্বাপণে অংশ নেয়।
তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়, তা নিশ্চিত করে এখনো কেউ জানাতে পারেনি।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। টানা ১৭ ঘণ্টা জ্বলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। একই দিন রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের একটি সুতার মিলে আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
তারও আগে, ১৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গোডাউন ও পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, যাতে ১৬ জন প্রাণ হারান।


