খারাপ আবহাওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটি একই সঙ্গে মহেশখালীর দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালকে বিপর্যস্ত করায় দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা আবারও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এর ফলে শুক্রবার তাদের সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহ কমে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের (এমএমসিএফ) কাছাকাছি নেমে এসেছে–যা স্বাভাবিক উৎপাদনের তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মধ্যে ‘সামিট পরিচালিত টার্মিনালটি শুক্রবারে পুরোপুরি বন্ধ ছিল’, আর ‘আমেরিকাভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল স্বাভাবিক ক্ষমতার প্রায় অর্ধেক’। দেশের জ্বালানি খাতের একটি সংকটময় মুহূর্তে এই বিঘ্ন ঘটল, যখন খাতটি এমনিতেই গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের…
Author: সালেহ নোমান
ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের আট দিন পরও দেশের এলএনজি অবকাঠামোর তদারকির দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা বলতে পারছে না, ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন পেট্রোবাংলা বলছে, দেশের প্রথম বড় ধরনের এলএনজি টার্মিনাল দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ধারণের মতো প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ জনবল তাদের নেই। ২০১৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে এলএনজি আমদানি শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর টার্মিনাল বিপর্যয়। এই ঘটনা ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) তদারকিতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে এসব এফএসআরইউ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস)…
বন্যায় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রেললাইন মেরামতের জন্য বাংলাদেশ হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু এই সংস্কার কাজের বেশিরভাগই করা হচ্ছে পুরোনো ধাঁচে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন যেভাবে হুটহাট রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও বন্যা হচ্ছে, তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো করে রেল নেটওয়ার্ককে গড়ে তোলা হচ্ছে না। বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান প্রকল্পগুলো দেখলেই এই অমিল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর টাকায় চলা একটি প্রকল্পে রেললাইন উঁচু করা এবং বন্যা মোকাবিলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের নিজস্ব তহবিলের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে রেললাইন উঁচু না করে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত লাইন, মাটির বাঁধ ও ড্রেন মেরামতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই…
কারও কোলে ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কিত ছোট্ট শিশু, কারও হাতে জীবনের শেষ সম্বলটুকু। চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। এই সর্বগ্রাসী রূপের মাঝে সবাই হন্যে হয়ে খুঁজছেন একটুকরো শুকনো মাটি আর একটু নিরাপদ আশ্রয়। কোথাও আশি বছরের বৃদ্ধ বাবাকে পিঠে নিয়ে অসহায় সন্তানের আকুতি, আবার কোথাও দুই বছরের নিষ্পাপ শিশুকে দাফন করার মতো এক চিলতে শুকনো জমিও মিলছে না। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর উজানের পানির তোড়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তৈরি হয়েছে এক প্রলয়ংকরী দুর্যোগ। চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে জনজীবন এখন কার্যত অচল। বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস আর সড়ক বিচ্ছিন্নতায় লাখ লাখ মানুষ এখন প্রকৃতির কাছে জিম্মি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ…
বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন যুদ্ধবিগ্রহ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ হারাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। ফলে দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। ধীরে ধীরে এই মানবিক সংকটের আর্থিক ও রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রোহিঙ্গাদের প্রায় পুরো বোঝা এককভাবে চেপে বসছে বাংলাদেশের ওপর। এই বাস্তবতার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে গত ২০ মে। সেদিন জাতিসংঘ এবং রোহিঙ্গা কোঅর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্ম (আরসিপি) তাদের ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জেআরপি) বৈশ্বিক মানবিক কূটনীতির কেন্দ্রস্থল জেনেভার পরিবর্তে ঢাকায় প্রকাশ করে। যদিও বিষয়টিকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কাছাকাছি আসার একটি কৌশল বলা হচ্ছে, তবে সমালোচকদের মতে এটি মূলত সংকটের দায় বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ারই কৌশল। বর্তমানে কক্সবাজার…
এবারের ঈদুল আজহায় আরও একবার বড় ধরনের মন্দার মুখোমুখি হয়েছে দেশের চামড়া শিল্প। ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে দেখছেন কিভাবে চামড়ার দাম ধসে পড়ছে, কীভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া অবিক্রিত থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে না পারায় যে দূষণ ঘটছে, তার কারণে ইউরোপের ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও কাঁচা চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। এসব সমস্যা জানা থাকার পরেও সিইটিপি সম্প্রসারণ কিংবা নতুন শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা আটকে আছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই খাতের বিপুল রপ্তানি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারের কার্যকর তদারকি এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগের অভাব পরিস্থিতিকে…
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬৭ জন মানুষ। এর আগে ২০২৫ সালে এখানে মৃত্যু হয়েছিল ১৩৪ জনের। এই মহাসড়কে এখন প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অথচ এই একটিমাত্র রাস্তা দিয়েই উপকূলীয় খামারের লবণ, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইস্পাত এবং দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার পরিবহন করা হয়। এর পাশাপাশি এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন বছরে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটক। অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের এই অর্থনৈতিক করিডোর ২০৫০ সালের মধ্যে জাতীয় জিডিপিতে অতিরিক্ত ১৫০ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখতে পারে। তবে এই হিসাব তখনই মিলবে যখন সড়কটি সচল থাকবে। কিন্তু বাস্তবে রাস্তাটির চাকা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।…
বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের জন্য একটি ভেঙে পড়া আর্থিক সাম্রাজ্য পুনর্গঠন করা তা গড়ে তোলার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ব্যাংক কেলেঙ্কারি, বিপুল পরিমাণ ঋণ জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িত একসময়ের ধরাছোঁয়ার বাইরের এই চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠীটি এখন সম্পদ বাজেয়াপ্ত, আইনি চাপ এবং তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের কাছে এখন আসল প্রশ্ন এটি নয় যে কীভাবে এই গ্রুপটি ব্যাংকিং খাতে তাদের আধিপত্য হারিয়েছে, বরং মূল প্রশ্ন হলো তারা কি কখনো তা ফিরে পাবে? আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পরবর্তী সরকারগুলো এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুহাম্মদ…
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও জ্বালানি সংকট আপাতত সামাল দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ধরে রাখা দিন দিন বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত আছে, তা দিয়ে আগামী দুই মাস চলা যাবে। আর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির মজুত দিয়ে ৪৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অশান্তির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদেশগুলোর কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়ার প্রধান পথগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে সরকারকে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার বা স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যেখানে…
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে এজাজ আহমেদ এমন একটি মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, যার সেখানে থাকার কথা ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকালে এই মুদি দোকানি তার ১১ বছর বয়সী ছোট বোন রেশমিকে শেষবারের মতো বাড়ি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খুব সাধারণ প্রয়োজনে শুরু হয়েছিল এই ট্র্যাজেডি। গত ৭ মে বন্দর নগরীর রউফাবাদ বিহারী কলোনির বাসা থেকে পান কিনতে বেরিয়েছিল রেশমি। কিন্তু সে আর অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পারেনি। প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাসায় রাউজান থেকে আসা হাসান রাজু নামের এক যুবকের ওপর হামলার সময় দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে যায় সে। হাসান রাজু নিজেও একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী। সেই হামলার সময় একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট…

