বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের রাজনীতি হতে হবে নীতিনির্ভর। রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার কী নীতি থাকবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত। তবেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সামনে এগিয়ে যাবে।
বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যানজটসহ সব নাগরিক সমস্যার সমাধানে দেশি-বিদেশি পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব স্যাটেলাইট সিটির সঙ্গে ঢাকার ট্রেন যোগাযোগ থাকবে, যেখানে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে রাজধানীর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি পুরান ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
বুড়িগঙ্গা নদীকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নদীর তলদেশে জমে থাকা পলিথিন উত্তোলন করে খনন করা গেলে বুড়িগঙ্গা তার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে বিএনপি।
বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সময় এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সকল নাগরিক তার যথাযোগ্য মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো দলের সদস্যরা গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জনগণ যাকে ভোট দেবে, সেই ক্ষমতায় আসবে—এমন একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে তিনি আশা করেন, এই কার্ড মূলত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করবেন এবং যাদের প্রয়োজন নেই বা যারা স্বচ্ছল, তারা নিজেরাই এটি ব্যবহার করবেন না।
স্বাধীন গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকার কাজ করবে।
ডিআরইউর নিরপেক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সাংবাদিকরা কোনো দলকে সমর্থন করলেও কর্মক্ষেত্রে তার প্রতিফলন না ঘটানোই উত্তম।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশে গণতন্ত্র না থাকলেও ডিআরইউ প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর নিয়মিত নির্বাচন করে আসছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। এ জন্য তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী, সিনিয়র সাংবাদিক ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, ডিআরইউ সহসভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো. মাজাহারুল ইসলাম।
সাক্ষাৎ শেষে ডিআরইউর পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পারিবারিক মিলন মেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার হাতে ডিআরইউর শুভেচ্ছা স্মারক ও প্রকাশনা সামগ্রী তুলে দেন।


