মাথার ওপর জরাজীর্ণ কয়েক টুকরো পলিথিন, আর চারদিকে বাঁশের খুঁটি। এভাবেই একটি ঝুপড়ি ঘরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর ইউনিয়নের কড়াইকান্দী গ্রামের বিধবা জাহানারা বেগম।
বয়স ৫০-এর কাছাকাছি হওয়ায় শরীর এখন আর সায় দেয় না, হারিয়েছেন কাজ করার শক্তিও। দু’বেলা ভাতের আশায় প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেই চলে তার জীবনযুদ্ধ।
মানবেতর জীবন ও প্রতিকূলতা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে স্বামী হযরত আলীর মৃত্যুর পর থেকেই জাহানারার ঠিকান বলতে একটি পলিথিনের ঘর। বৃষ্টি হলে ঘর উপচে পানি পড়ে, নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাকে। শীতের কনকনে ঠান্ডায় খড়কুটো জ্বালিয়ে কোনোমতে টিকে থাকেন তিনি। কেবল আবহাওয়া নয়, রাতের অন্ধকারে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক নিয়ে জেগে থাকতে হয় এই বৃদ্ধাকে।
জাহানারা বেগমের তিন সন্তান থাকলেও চরম দারিদ্র্যের কারণে কেউ তার দায়িত্ব নিতে পারছেন না। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আর দুই ছেলে অভাবের তাড়নায় বিয়ের পর আশ্রয় নিয়েছেন শ্বশুরবাড়িতে।
স্থানীয়দের দাবি
প্রতিবেশী হালিম ও ফারজানা খাতুন বলেন, ‘এই যুগে এসেও একজন মানুষ এমন পলিথিন ঘেরা ঘরে থাকে, তা ভাবলে আমাদের কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলে আমরা আতঙ্কে থাকি কখন জানি তার ঘরটা ভেঙে পড়ে।’ এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন যেন মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত তাকে একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টি অইলে ঘরোত পানি পড়ে, এই বয়সে কাম কাইজ করার শক্তি নাই। সরকার যদি একটা ঘর দিত, তাইলে মরণের আগে শান্তিতে একটু ঘুমাইতে পারতাম।’
প্রশাসনের আশ্বাস
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানান, তারা ব্যক্তিগতভাবে মাঝে মাঝে জাহানারাকে সহায়তা করেন। তাকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তিনি যদি প্রকৃতপক্ষেই যোগ্য হন, তবে তাকে সরকারি ঘর বা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আওতায় আনা হবে।’
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদ একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন জাহানারা বেগম-এমনটাই প্রত্যাশা কড়াইকান্দীবাসীর।


