জনপ্রিয় নির্মাতা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’র সিইও রেদওয়ান রনি বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন শৌভ রহমান রনি নামে আরেক নির্মাতা।
স্মারকলিপিতে পেশাগত হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিডিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজে বাধা দেওয়াসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। শৌভ রহমান রনির দাবি, তিনি এক সময় রেদওয়ান রনির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
তবে নির্মাতা রেদওয়ান রনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, এ বিষয়ে আদৌ তিনি আনুষ্ঠানিক কোনও অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আনুষ্ঠানিকভাবেই জবাব দেবেন।
শৌভ রহমান রনি স্মারকলিপিতে অভিযোগ করেছেন, ২০১১ সালে তিনি রেদওয়ান রনির সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তখন থেকেই রেদওয়ান রনির ব্যক্তিগত বিরাগের শিকার হয়েছেন শৌভ। তাকে চরকির বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও রেদওয়ান রনি প্রভাব খাটিয়ে বাদ দিয়েছেন, অভিযোগ তার।
স্মারকলিপিতে শৌভ লিখেছেন, ‘প্রথমেই স্পষ্ট করে জানাতে চাই প্রথম আলো বা চরকি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমার মূল সমস্যা শুরু হয় ২০১১ সালে, যখন আমি রেদওয়ান রনির সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। সেই সময় থেকেই তিনি আমার প্রতি একটি সুস্পষ্ট ব্যক্তিগত বিরাগ পোষণ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি চরকিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় সেই প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে, আমি বিভিন্ন প্রকল্প ও কাজ থেকে অব্যাহতভাবে বঞ্চিত হচ্ছি।’
শৌভ জানান, সম্প্রতি পুরনো ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে রেদওয়ান রনির আমন্ত্রণে তিনি তার বাবা এবং স্কুলবন্ধু কাজী মাহমুদুল হাসান শুভকে চরকির অফিসে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই রেদওয়ান রনির আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ‘প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের মানসিক চাপে রাখা হয় এবং অশোভন মন্তব্য ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়’, বলে দাবি করেন শৌভ।
স্মারকলিপিতে শৌভ আরও বলেন, ‘রেদওয়ান রনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতির মুখোশে মুড়ে মুজিব কোট পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, এমনকি ভারতীয় (কলকাতা) মিডিয়া পার্টিতেও ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পূর্ব মুহূর্তে তিনি আচরণ পাল্টে নেন এবং এখন বাস্তবতা হলো-সুযোগসন্ধানী রেদওয়ান রনি নিজের খোলস বদলিয়েছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান বদলানো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একজন স্বাধীন নির্মাতার পেশাগত জীবনকে প্রভাবশালী ব্যক্তি দ্বারা জিম্মি করে রাখার ঘটনা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং মিডিয়া জগতে ব্যক্তি-ভিত্তিক সিন্ডিকেটের উদাহরণ।’
এ ঘটনায় তিন দফা দাবি জানিয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, পেশাগত মর্যাদা ও কাজের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ এবং মিডিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান শৌভ।
তিনি জানান, কোনও ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসক বরাবর এই স্মারকলিপি দিয়েছেন। শিগগির এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত বলবেন বলেও জানান।
রেদওয়ান রনি যা বললেন
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে টাইমস অব বাংলাদেশকে লিখিত জবাব দিয়েছেন নির্মাতা রেদওয়ান রনি।
সেখানে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমি কোনও চিঠি পাইনি। আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম বিষয়টা। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও উত্তর যদি আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তখন এগুলো নিয়ে আমিও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারব। তার আগে কিছু বলতে পারছি না।’
‘প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি, চরকিতে যেকোনো নির্মাতা গল্প জমা দিতে পারেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে কনটেন্ট টিম তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় গল্প নির্বাচন বা বাতিল করেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ক অভিযোগ চরকির অফিসিয়াল মাধ্যমে জানাতে পারেন যে কেউ’, যোগ করেন রনি।


