ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমকে ‘ভণ্ড ও জাতীয় বেইমান’ বলে মন্তব্য করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল শেখ ফজলে বারী মাসউদ এবং সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ্যানি সম্প্রতি এক জনসভায় চরমোনাই পীর সম্পর্কে অশালীন ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য রাজনৈতিক ও সচেতন মহলকে ব্যথিত করেছে।
নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে ডিরেক্ট স্বৈরাচারের সঙ্গী। ২০১৮ সালের অবৈধ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়ে তারা সংসদে ছয়জন সাংসদ পাঠিয়েছে। এখন নিজেদের দোষ আড়াল করতে মিথ্যাচার করছে এবং জনমতকে ভিন্ন দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে।’
তারা আরও বলেন, ‘জাতীয় চাঁদাবাজরা মিথ্যা ছাড়া কিছু বলতে পারে না। মিথ্যা বলাই এ্যানি চৌধুরীদের মূল পুঁজি, যা বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যেই বুঝে গেছে। তাই তার মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী ইসলামপন্থীদের ঐক্য ও এক বাক্সে ভোটের প্রক্রিয়া বিএনপি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। নির্বাচনে ইসলামী জোট বিএনপির জন্য একমাত্র বড় বাধা। তাই নিজেদের ভরাডুবি আঁচ করে বিএনপি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
নেতারা অভিযোগ করেন, ‘বেইমান তো তারাই, যারা শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লুটপাট আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে।’
সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পূর্ব বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘১৭ বছর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন শেখ হাসিনাকে স্থায়িত্ব দিয়েছিল। এমন কোনো দালালি পাখা মার্কার ছিল না যে তারা করেনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। চরমোনাই পীর, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, পাখা মার্কা—সবই জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত। “চরমোনাই পীর আসলে পীর নয়, ভণ্ড”।’


